অবশেষে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের (আইবিএমসি) বিদেশি শিক্ষার্থী ও মডেল রাউধার আথিফের পিতা ডা. মোহাম্মদ আথিফ।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে রাউধা আথিফের পিতা ডা. মোহাম্মদ আথিফ রাজশাহীর মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় তার সহপাঠী বান্ধবী সিরাত পারভীন মাহমুদকে আসামি করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সিরাত পারভীন মাহমুদা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
রাওধার আথিফের পিতা ডা. মোহাম্মদ আথিফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা একটা নিশ্চিত হত্যাকাণ্ড। আমরা রাউধা আথিফের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাংলাদেশের রাজশাহীতে ছুটে আসি। ময়নাতদন্তের আগে হাসপাতালের হিমঘরে গিয়ে রাউধার লাশ দেখি। রাউধার গলায় হাতের আঙুলের স্পষ্ট ছাঁপ রয়েছে। চিকিৎসক হিসেবে যার সাহায্যে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে আমার মনে হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘রাউধাকে যে হত্যা করেছেন তিনি ডান হাতি। এবং তাকে শ্বাসরোধ করেই হত্যা করা হয়েছে। আর যদি রাউধা আত্মহত্যা করেই থাকে, তাহলে কেনো পুলিশ আসার আগেই তাকে নামানো হলো? আমি প্রথমেই হাসপাতালের ভেতরের রুমে লাশ দেখে মনে হয়েছে রাউধাকে হত্যা করা হয়েছে। এ মামলাটি রাজশাহীর পুলিশ ভালো করে তদন্ত করবে এটাই আমি আশা করি।’
জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টায় মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে রাজশাহীর আইবিএমসিতে যান রাউধার পিতা। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করে তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে যাবার সময় গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে ডা. মোহাম্মদ আথিফ মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য জানতে আইনের আশ্রয় নেয়ার (মামলা করার) আগ্রহ প্রকাশ করেন।
গত ২৯ মার্চ প্রখ্যাত ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ মডেল ও আইবিএমসির শিক্ষার্থী রাউধা আথিফের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মনসুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের বোর্ড গঠন করা হয়। রাউধার মরদেহ ময়নাতদন্তের ওই বোর্ডের অপর সদস্যদের মধ্যে ছিলেন আইবিএমসির ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. এমদাদুর রহমান ও রামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক। ময়নাতদন্ত শেষে গত ১ এপ্রিল রাজশাহীর হেতমখাঁ গোরস্থানে মালদ্বীপের মেয়ে রাউধা আথিফের মরদেহ দাফন করা হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/ইউবি