হকার উচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে :কাউন্সিলর
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন :ওয়ার্ড-৮
রাজধানীর শাহ আলী থানার পুরোটা নিয়েই গঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ড। দক্ষিণ-পশ্চিমে হযরত শাহ আলীর মাজার ও উত্তর-পূর্বে বোটানিক্যাল গার্ডেন, দক্ষিণে সনি সিনেমা হল থেকে মাজার পর্যন্ত বিপণি বিতানের সারি ও পশ্চিমে তুরাগ নদী নিয়ে এই ওয়ার্ড গঠিত। ঘন বসতি ও নিম্ন আয়ের লোকের বাস এ ওয়ার্ডে। রয়েছে কয়েকটি বস্তি।
ওয়ার্ডের সনি সিনেমা হল থেকে চিড়িয়াখানা ঢাল পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকানপাট ও কাঁচা বাজার। দেখা যায়, মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের ঈদগাহের সামনের মূল সড়কের ওপর বসেছে অস্থায়ী বাজার। এর মধ্যে ভ্যানগাড়ির ওপর ভাসমান কিছু দোকান যেমন আছে, তেমনি আছে সড়কের ফুটপাত দখল করে বসানো স্থায়ী-অস্থায়ী দোকান।
জানা যায়, প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এ বাজার বসে। তবে স্থায়ী দোকানগুলো সারা দিনই থাকে। গত বছর বাজারটি উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এর কয়েক দিন পরেই আবার বাজারটি বসে যায়।
ওয়ার্ডের সড়কগুলো ভাঙাচোরা। দেখা যায়, বেশ কিছু সড়কের সংস্কারকাজ চলছে। পানি নিষ্কাশনের বড় বড় পাইপ বসানো হচ্ছে। ২০১৫ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর থেকে ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি সড়ক সংস্কার করা হয়েছে বলে এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। ওয়ার্ডের তুরাগ সিটি প্রিয়াঙ্কা হাউজিং সোসাইটিতে প্রায় ১৫ হাজার লোকের বাস। কিন্তু এ হাউজিংয়ে প্রবেশপথ এবং ভেতরের প্রতিটি সড়ক এখনো বালি-মাটির তৈরি। সড়কে পিচ ঢালাই তো বহুদূর, ইট বিছানোও হয়নি।
দেখা যায়, প্রিয়াঙ্কা হাউজিং থেকে মিরপুর-১ নম্বরে যাতায়াতের প্রধান সড়কটি শুরু হয়েছে এ-ব্লকের ৫ নম্বর সড়কের শেষ প্রান্ত থেকে। ৫ নম্বর সড়কের শেষ মাথা থেকেই আর কোনো যানবাহন চলে না। ফলে হাউজিংয়ের বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত চলাচলে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। তবে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সড়কগুলোতে পানি নিষ্কাশনের পাইপ বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের অভিযোগ, এ ওয়ার্ডে মাদক বড় সমস্যা। আর মাদকের এ ব্যবসা মূলত গুদারাঘাট এলাকাকেন্দ্রিক। গুদারাঘাট এলাকার বস্তিগুলোতে চলে মাদকের ব্যবসা।
কাউন্সিলর মো. কাজী টিপু সুলতান বলেন, ওয়ার্ডবাসীর প্রধান সমস্যা ছিল ড্রেনেজ। ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাজুক থাকায় এলাকাবাসীর কষ্ট হতো। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ড্রেনেজ উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। পুরো ওয়ার্ডের ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৭ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। বর্তমানে আরো ৪৩ কোটি টাকার কাজ চলছে। এর মধ্যে ৫ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ সমাপ্তির পথে। বাকি ৩৮ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ এই বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন তিনি। এই ওয়ার্ডে এই বছরই ৬০-৭০ ভাগ উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে দুইটি পাবলিক টয়লেট করা হয়েছে। এতে ব্যয় করা হয়েছে ৮০ লাখ টাকা। ওয়ার্ডের ফুটপাতের রাস্তায় হকার আছে। তাদের এক দিকে উচ্ছেদ করলে আরেক দিকে বসে। এদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে। এ ব্যাপারে নোট নেওয়া হয়েছে। চিড়িয়াখানা রোড ও মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট রোড হকার মুক্ত করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু