প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ছাত্রীর মুখে ক্ষুরের আঘাত

 
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মহেশখালীতে এক স্কুল ছাত্রীর মুখে ধারালো ক্ষুর দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করেছে এক বখাটে। মঙ্গলবার বিকেলে স্কুল থেকে ফেরার পথে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়। আহত ছাত্রী মহেশখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।
 
হামলায় আহত ছাত্রীর ভাই মাসুক জানান, বড় মহেশখালী দেবাঙ্গাপাড়া এলাকার আবু তাহেরের পুত্র আশেক উল্লাহ কয়েক মাস ধরে তার বোনকে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বড় মহেশখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর এই ছাত্রী (নাম পরিচয় গোপন রাখা হল)'কে নানা ভাবে হয়রানি করার এক পর্যায়ে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
 
তখন ওই বখাটের পিতা-মাতাকে ডেকে এনে স্কুল কর্তৃপক্ষ এমন আচরণের বিষয়ে অবগত করেন। তারা ছেলের দায়িত্ব নিয়ে এ ধরণের ঘটনা আর হবে না মর্মে অঙ্গিকার করে। ইতোমধ্যে এলাকার প্রভাবশালী এই বখাটের পক্ষ থেকে ছাত্রীর পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেয়া হয়।
 
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৪ টার দিকে স্কুল ছুটির পর এই ছাত্রী পায়ে হেটে বাড়ি ফিরছিল। তখন মেয়েটির সঙ্গে তার একজন সহপাঠীও ছিল। তারা দুজন দেবাঙ্গাপাড়া চিতার সামনে পৌছলে স্থানীয় জনৈক আব্দুর রশিদের পুত্র সাহেদ ও আশেক ওই ছাত্রীর গতিরোধ করে অপহরণের চেষ্টা চালায়। এ সময় বাঁধা দিলে এই স্কুল ছাত্রীকে ব্যাপক মারধর করে। এক পর্যায়ে ধারালো ক্ষুর দিয়ে ছাত্রীর মুখমণ্ডলের বাম দিকে আঘাত করে।
 
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এ সময় মেয়েটির কপোলের বড় অংশ কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ফাঁকা গুলি করে হামলাকারীরা সটকে পড়ে।
 
এই হামলার ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে মনে করেন স্থানীয়রা। এদিকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির আযাদ।
 
এদিকে  তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মহেশখালীর (ইউএনও) মোহাম্মদ আবুল কালাম ও মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার পাশা চৌধুরী। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
 
এই ঘটনায় ১১ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতেই আশেককে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান।
 
ইত্তেফাক/নূহু