আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড পাওলো ডিবালার প্রথমার্ধের দুই গোলে জুভেন্টাস চ্যাম্পিয়নস লীগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বার্সেলোনাকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে। ডিবালার সাফল্যের দিনে দীর্ঘদিনের সতীর্থ লিয়নেল মেসি ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝিতে ডিবালার দুই গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হবার পরে গিওর্গিও চিয়েলিনি দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দলের পক্ষে তৃতীয় গোল করলে তুরিনে স্বাগতিকদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এই জয়ে আগামী বুধবার ক্যাম্প ন্যূতে এ্যাওয়ে ম্যাচে কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকলো ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।
এর আগে শেষ ১৬’র লড়াইয়ে প্রথম লেগে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনের বিপক্ষে ৪-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় লেগে ৬-১ গোলের অবিশ্বাস্য জয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল বার্সেলোনা। সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির পথে এখন স্বপ্ন বুনছেন বার্সা সমর্থকরা।
সর্বশেষ ২০১৫ সালের ফাইনালে স্প্যানিশ জায়ান্টের মুখোমুখি হয়েছিল জুভেন্টাস। যে ম্যাচে তুরিনের ক্লাবটি ৩-১ গোলে পরাজিত হয়েছিল। কিন্তু এবার মেসি, নেইমার ও লুইস সুয়ারেজের সমন্বয়ে গঠিত বার্সা আক্রমণকে কোন দিক থেকেই সফল মনে হয়নি। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই সামি খেদিরার একটি ভাল প্রচেষ্টা নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ২৩ বছর বয়সী দিবালা স্বাগতিকদের জন্য চমক উপহার দিয়েছেন। ডান দিক থেকে হুয়ান কুয়ারড্রাডোর পাসে ১২ গজ দুর থেকে ডিবালা বাম পায়ে কার্লিং শটে বার্সার জালে বল জমা পড়লে সাত মিনিটেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টার স্টেগান হাত বাড়িয়েও তা ধরতে পারেননি। ২১ মিনিটে মেসির দারুণ একটি পাস থেকে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার শট গিয়ানলুইগি বুফন আটকে দেন। পরমুহূর্তেই কাউন্টার এ্যাটাক থেকে ডিবালা ব্যবধান দ্বিগুণ করলে প্রথমার্ধে দুই গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধের মাঝামাঝিতে অবশ্য মেসি গোলের একটি সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু আগেই ফাউল হওয়ায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়। শেষ মিনিটে হিগুয়েইন ও লিওনার্দো বনুচ্চির শট টার স্টেগান কোন রকমে রক্ষা করেন।
বিরতির পরে বার্সেলোনা কোচ লুইস এনরিকে ফ্রেঞ্চ লেফট ব্যাক জেরেমি ম্যাথুর স্থানে বেঞ্চ থেকে উঠিয়ে আনেন পর্তুগীজ মিডফিল্ডার আন্দ্রে গোমেজকে। এর ফলে জেভিয়ার মাসচেরানোকে রক্ষণভাগে ফিরিয়ে আনা হয়। সফরকারীরা কিছুটা আগ্রাসী হয়ে খেলতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় সুয়ারেজের শট বুফনের পাশ কাটিয়ে বাইরে চলে যায়। কিন্ত ৫৫ মিনিটে চিয়েলিনির হেডে বার্সেলোনার সব আশা শেষ হয়ে যায়। ২০০৯ সালের অক্টোবরের পরে এটাই চিয়েলিনির এই প্রতিযোগিতায় প্রথম গোল। বাসস।
ইত্তেফাক/রেজা