এখন বাচ্চাদের প্রায়ই স্কুলে দিয়ে ও নিয়ে আসতে হয়। মাঝে মাঝে না যেতে পারলে মেয়ের বকুনিও খেতে হয়, দিতে হয় হাজার কৈফিয়ত! বাবা, তুমি কেন আনতে যাওনি আজ? দেখ না সবার আম্মুরা আনতে যায়? ওহ্ আচ্ছা বুঝতে পেরেছি, আমাকে তুমি ভালোবাস না, তাই যাও না। মঙ্গলবার বিকালে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ কথাগুলো লিখেছেন।
স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুকে হারানোর পর দুই সন্তানের দায়িত্ব এখন নিজের কাঁধে। আগে তার সকাল হতো ৮টায়। সন্তানদের স্কুলের কারণে এখন হয় ৬টায়। এরপর মেয়েকে প্রস্তুত করে স্কুলের দিকে ছোটেন। স্ত্রী মিতু নির্মমভাবে খুন হওয়ার পর দুই সন্তানকে এখন বাবুলই আগলে রেখেছেন। নিজের সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন ফেসবুক পেজে।
তিনি লিখেছেন, বাচ্চা দুটোকে একা সামলাতে গিয়ে সন্তান লালন-পালনের নানা প্রবন্ধ পড়ি নিয়মিত। স্কুল ছুটির সাথে সাথে ‘আজ ক্লাসে কী পড়িয়েছে?’ ‘সব ঠিকমত লিখেছ?’ এসব প্রশ্ন করে শিশুকে ভীতির মধ্যে ফেলে না দেওয়াই উত্তম। ছুটির পর সন্তানকে কাছে টেনে নিয়ে যদি প্রশ্ন করা হয় ‘আজ কেমন দিন কাটালে, বাবা?’
তবে গল্পে গল্পে সে আপনার সাথে প্রতিদিনের সব কথা শেয়ার করা শিখবে। দীর্ঘদিনের চর্চায় সন্তান হয়ে উঠবে আপনার বন্ধু। বড় হয়েও নিজের সব বিষয় জানাবে আপনাকে। তখন সন্তান কী করছে বা কার সাথে মিশছে সেই চিন্তায় অস্থির থাকতে হবে না। সন্তানকে জিজ্ঞাস করা উচিত ‘সে স্কুলে কাকে কাকে সাহায্য করেছে, কী কী ভাল কাজ করেছে।’ বাচ্চার কাছে জানতে চাওয়া উচিত ‘সে নতুন কোনো খেলা খেলেছে কী না। ক্লাসে মজার কিছু শিখেছে কী না।’ এতে সে বুঝবে শেখার মাধ্যমেও জীবনকে উপভোগ করা যায়। আমাদের আচরণই সন্তানের জীবনকে আকার দেয়। তাই কেবল পড়ালেখার গন্ডিতেই রাস্তা এঁটে দেওয়া উচিত না।
তিনি লিখেছেন, শৈশব একটাই। গত হলে আর ফিরে আসবে না। আজ থেকে বিশ বছর পর আমাদের সন্তান যেন শৈশবের সুখস্মৃতি মনে করতে পারে, যেন রোমন্থন করতে পারে স্কুল শেষে আপনার আর তার গল্পের ফুলঝুরি আর স্মৃতিকথা।
ইত্তেফাক/কাউছার