কূলভূষণকে নিয়ে ভারতের হম্বিতম্বি ‘অযৌক্তিক’:পাকিস্তান

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সাবেক ভারতীয় নৌ কর্মকর্তা কুলভূষণ যাদবের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ভারতের হম্বিতম্বি ‘অযৌক্তিক’ এবং এতে করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘৃণা বাড়ছে। ইসলামাবাদে ভারতীয় হাই কমিশনার গৌতম বামবাওয়ালেকে একথা বলেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব তেহমিনা জানজুয়া। খবর আইএএনএস’র

যাদবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়ার জন্য ফের ভারতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানজুয়া বলেন, ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ দিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সহায়ক নয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়েছে। পাকিস্তান যাদবের দণ্ডাদেশ কার্যকর করলে ভারত একে ‘পরিকল্পিত খুন’ বলেই গণ্য করবে, দিল্লির সেই বিবৃতিটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে কথাগুলো বলেন জানজুয়া।

যাদবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়ার ভারতের অনুরোধ ১৪ বারের মতো প্রত্যাখ্যান করল পাকিস্তান। ভারতের হাইকমিশনার গৌতম বামবাওয়ালে পরে সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা (যাদবের সঙ্গে) একটি বৈঠক চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। ওদিকে, জানজুয়াও বলেছেন, ভারতও বছরের পর বছর ধরে তাদের জেলে বন্দি পাকিস্তানিদের সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি দেয়নি। পাকিস্তানের সামরিক আদালত ১০ এপ্রিলে গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগে কুলভূষণ যাদবের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর দুদেশে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

কুলভূষণ যাদবকে ২০১৬ সালের ৩ মার্চ পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী তত্পরতা চলছে। ভারত এতে মদদ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছে পাকিস্তান। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, “বেলুচিস্তানে গুপ্তচরবৃত্তি ও নাশকতার পরিকল্পনা, সমন্বয় ও বাস্তবায়নের জন্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা তাকে নিয়োগ দিয়েছে বলে তিনি (কুলভূষণ সুধীর যাদব) স্বীকার করেছেন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করাই এর লক্ষ্য ছিল।”

ভারত এ দণ্ডাদেশের নিন্দা জানায় এবং যাদবের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়াকে উদ্ভট আখ্যা দেয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, “শ্রী যাদব গত বছর ইরান থেকে অপহূত হয়েছিলেন এবং এরপর পাকিস্তানে তার উপস্থিতির বিষয়টি কখনওই বিশ্বাসযোগ্যভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি “তার দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হলে ভারত একে ‘পরিকল্পিত খুন’ হিসাবে গণ্য করবে বলেও জানায়।

ইত্তেফাক/নূহু