কুষ্টিয়ায় ‘জীব প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি বীজ উন্নয়ন, বর্ধিতকরণ, মান নিরূপণ ও প্রযুক্তি বিস্তার প্রকল্পের’ আওতায় চাষী সমাবেশ ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে কুষ্টিয়া বিএডিসির হিমাগার চত্ত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে কুষ্টিয়া হিমাগার জোন হতে ৬০ জন চাষীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। সমাবেশের প্রধান অতিথি প্রকল্প পরিচালক ড. মো রেজাউল করিম বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে বিএডিসি নিজস্ব টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরিতে প্লান্টলেট উত্পাদন করে তা থেকে মিনিটিউবার, ব্রিডার ও ভিত্তি বীজ বীজআলু কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করছে। ফলে বিদেশ থেকে বীজআলুর আমদানী নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় গত কয়েক বছরে মানসম্পন্ন বীজআলু উত্পাদন করে বিএডিসি বীজআলুর আমদানী শূন্যের কোঠায় পৌঁছে দিয়েছে। ইতোমধ্যে এ প্রক্রিয়ায় রোগমুক্ত ও মানসম্পন্ন বীজআলু উত্পাদন ও সরবরাহ করায় দেশের গড় ফলন হেক্টর প্রতি ১৫.০০ মে. টন হতে বৃদ্ধি পেয়ে ১৯.৫০ মে.টনে উন্নীত হয়েছে এবং বিদেশে খাবার আলু রফতানি হচ্ছে এবং বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে।
তিনি বলেন, আগামীতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে এবং দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে বীজআলু রফতানি করা সম্ভব হবে। এ প্রকল্পের চাষী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বীজআলু উত্পাদনের আধুনিক কলাকৌশল শিক্ষা প্রদান করে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়াও প্রকল্পের নতুন ছাড়কৃত জাতের আলু ফসল কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয় করার জন্য প্রদর্শণী প্লট স্থাপন ও মাঠ দিবস বাস্তবায়নের কার্যক্রম রয়েছে। এ সময় সমাবেশ বীজ প্রত্যয়ন অফিসার মো. আলী হাসান, যুগ্ম পরিচালক (সার) একেএম কামরুজ্জামান, উপ-পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, উপ-পরিচালক (খামার), মো. কামরুজ্জামান সরকার, মো. এনামুল হক এবং উপপরিচালক (টিসি), মো. শফিউল আলম উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে অতিথিবৃন্দ কৃষকদের উদ্দেশে মানসম্পন্ন বীজ আলু উত্পাদনের ভবিষ্যত্ দিক নির্দেশনা প্রদান করেন এবং কৃষি বান্ধব সরকারের মিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪০ বাস্তবায়নের জন্য আহবান জানান।