কালবৈশাখীতে নিহত ৩ নিখোঁজ ২, ব্যাপক ক্ষতি

কালবৈশাখী ঝড়ে শনিবার রাতে রংপুর, কুড়িগ্রাম ও শেরপুরে তিনজন নিহত হয়েছেন। সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট, ফসল ও গাছ-গাছালির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

রংপুর প্রতিনিধি জানান, শনিবার রাতে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে পীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বিশলা গ্রামে গাছ চাপায় সালেহা বেওয়া নামের এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। গাছ উপড়ে পড়ায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলায় ঝড়ে সজি খাতুন (৪০) নিহত হয়েছেন। তিনি মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল দিয়ারারচর কোনাচি পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস ছামাদ-এর স্ত্রী ।             গাছ চাপায় তার মৃত্যু হয়।

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা জানান, শনিবার রাতে উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে ঘরচাপা পড়ে সালমা বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। তিনি বাকাকুড়া গ্রামের মৃত মছর শেখের স্ত্রী।

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন টাঙ্গুয়ার হাওরে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে মাসুক মিয়া (২৬) ও সাজিকুল হক (২০) নামে দুই জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ৬ শতাধিক কাঁচা ও টিনের ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলার বংশিকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেন জানান, শনিবার বিকেলে গোলাপপুর গ্রামের মাসুক মিয়াসহ ৮ জন এবং রূপনগর গ্রামের সাজিকুলসহ ৬ জন জেলে পৃথক দুইটি ছোট নৌকা নিয়ে পাশের টাঙ্গুয়া হাওরের বেরবেরীয়া বিলে জাল দিয়ে মাছ ধরতে যায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আকস্মিকভাবে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের দুইটি নৌকাই ডুবে যায়। এসময় অন্যান্যদের  সাঁতারকাটারত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করতে পারলেও মাসুক মিয়া ও সাজিকুল নামে দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

পীরগাছা (রংপুর) সংবাদদতা জানান, উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রামে ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টা বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, শনিবার বিকেলে বয়ে যাওয়া  প্রবল ঝড়ে সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্লাপুর ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার প্রায় দুই হাজার ঘর-বাড়ি, গাছ-পালা, বোরো ধানের ক্ষেতসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান,  আদমদীঘি ও তার আশেপাশের এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে আমন আবাদ কাঁচা ঘর-বাড়ি ও গাছ-পালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা জানান, নেত্রকোনায় কেন্দুয়া উপজেলায় শনিবার সন্ধ্যায় ঘর-বাড়ি, গাছ-পালা, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

শনিবার রাত সাড়ে ৭ টায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বর্ষণে বৈদ্যুতিক খুঁটি, যন্ত্রাংশ ও গাছ ভেঙ্গে তার ছিঁড়ে কমলগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুত্ বিপর্যয় ঘটে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি কমলগঞ্জ জোনের ৩৬ হাজার গ্রাহক বিদ্যুত্ বিহীন ছিলেন। চা কারখানায় উত্পাদনে বিঘ্ন ঘটে।

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, শনিবার দিবাগত রাতে বকশীগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে কোহিনুর এমদাদ এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেড নামে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ মেরুরচর, বগারচর, সাধুরপাড়া, নিলাক্ষীয়া, কামালপুর, বাট্টাজোড় ও সদর ইউনিয়নে শতাধিক কাঁচা ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, বীরগঞ্জে কালবৈশাখীর  ঝড়ে ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ঘর-বাড়ি, গাছ-পালা, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, শনিবার রাত ৮টায় জগন্নাথপুর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া  ঘূর্ণি ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার পৌর শহরসহ ৮টি ইউনিয়নের প্রায় সহস্রাধিক কাঁচা ঘর-বাড়ি, গাছ-পালা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।

ইত্তেফাক/নূহু