চট্টগ্রামে শত কোটি টাকা মূল্যের ২০ লক্ষ ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মোজাহের ও তার সিন্ডিকেটের ৮ সদস্যকে আটক করেছে র্যাব-৭। গতকাল রবিবার ভোর ৫টায় চট্টগ্রামের গভীর সমুদ্রে এফভি মোহছেন আউলিয়া নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। এসময় ট্রলার থেকে ৮ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ইয়াবার চালানের মালিক মোজাহের সিন্ডিকেটের প্রধান মো. মোজাহেরকে নগরীর সুগন্ধা এলাকায় নিজ বাসা থেকে আটক করা হয়। আটক অপর ৮জন হলেন- মো. মকতুল হোসেন, মো. নূর, মো. হেলাল, মো. আবদুল খালেদ, মো. জানে আলম, মো. লোকমান, মো. এনায়েত উল্লাহ ও মো. নুরুল মোস্তফা। র্যাব জানায়, দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক আটক ইয়াবার চালানের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্ববৃহত্। এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি ২৮ লাখ ইয়াবার সর্ববৃহত্ চালানটিও র্যাব-৭ আটক করেছিল।
এ উপলক্ষে গতকাল র্যাব-৭ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি। তিনি বলেন, র্যাব যেভাবে জঙ্গি দমন করে এবং জলদস্যু বা বনদস্যুদের দিকে নজর রাখে সেভাবে তারা ইয়াবার চালানও উদ্ধার করছে। র্যাবের হয়তো সমুদ্রগামী জাহাজ নেই। ছোটখাটো বোট নিয়েই তারা উপকূলে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে। ইয়াবার চালান আটকের পাশাপাশি আজ রবিবার আসল ব্যবসায়ী মোজাহেরকেও তারা আটক করেছে।
র্যাব-৭ অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ইয়াবা সিন্ডিকেটের প্রধান মোজাহের একসময় খুব দরিদ্র ছিল। সে আলু, পিঁয়াজের ব্যবসা করতো। সেই অবস্থা থেকে সে বর্তমানে বিশাল ধনসম্পত্তির মালিক হয়েছে।
টেকনাফে ৯ লাখ ৮০
হাজার পিস ইয়াবা জব্দ
টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, টেকনাফে বিজিবির জওয়ানরা ৯ লাখ ৮০ হাজার পিস পরিত্যক্ত ইয়াবা জব্দ করেছে। গত রবিবার ভোর পৌনে ৫ টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকা থেকে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আবুজার আল জাহিদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার সকালে বিজিবির একটি টহল দল টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় পাচারকারীরা পালিয়ে গেছেন বলে বিজিবির দাবি। জব্দকৃত ইয়াবাগুলো বিজিবির সদর ব্যাটালিয়নে জমা রাখা হয়েছে। যা পরবর্তী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু