মির্জাপুরে সমাজ সেবায় সিঙ্গাপুরের নাগরিক

মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য— এই ব্রত নিয়ে সমাজ সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন এক বিদেশি নাগরিক। নিজ দেশ সিঙ্গাপুরের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে এসে প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে ঘুরে সমাজের অসহায়, দুস্থ ও অনাথ শিশুদের জন্য নিজের টাকায় প্রতিষ্ঠা করে দিচ্ছেন স্কুল-মাদ্রাসা। আর গরীবদের জন্য ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট ব্যবস্থা। সমাজ সেবী সিঙ্গাপুরের নাগরিক লিম হিম কুক জেলায় মির্জাপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে নিজের টাকায় এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

উপজেলার পাঁচ নম্বর বানাইল ইউনিয়নের ভুসুন্ডি গ্রামে গত শনিবার গিয়ে দেখা যায়, লিম হিম কুকের সহযোগিতায় সমাজের অনাথ ও অসহায় শিশুদের জন্য তৈরি হচ্ছে স্কুল-মাদ্রাসা ও এতিমখানা। ভুসুন্ডি গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৬) জানান, প্রায় ২০ বছর আগে তিনি সিঙ্গাপুরে শ্রমিকের কাজ করার জন্য গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিম হিম কুকের কারখানায় কাজ পান। লিম হিম কুকের সততা ও দক্ষতায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দিন দিন উন্নতি লাভ করে। তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুবাদে লিম হিম কুকের সঙ্গে জাহাঙ্গীরের ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক সময় জাহাঙ্গীর চলে আসেন দেশের বাড়িতে। দীর্ঘ দিন পর কুক বাংলাদেশে এসে জাহাঙ্গীরের খোঁজ-খবর নেন এবং মির্জাপুরে এসে দেখা করেন। বাংলাদেশে এসে কুক অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এ জন্য তিনি জাহাঙ্গীরের সহযোগিতা চান।

প্রথমে মির্জাপুরের মাঝালিয়া, কুড়ালিয়াপাড়া, ভাবখণ্ড, পানিশাইল, পাইকপাড়া ও ভুসুন্ডি গ্রামে দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে পানি সরবরাহের জন্য নলকূপ স্থাপন, শীতে গরম কাপড় সরবরাহ, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবস্থাসহ খাবার স্যালাইন, ওষুধ, চাল-ডাল, চিনিসহ নানা সামগ্রী তুলে দেন। এদিকে সম্প্রতি তিনি আবার ভুসুন্ডি গ্রামে এসে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে ওঠেন। তিনি এলাকার অনাথ, অসহায় ও দুস্থদের জন্য স্কুল-মাদ্রাসা-এতিমখানা স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। জাহাঙ্গীরের সহযোগিতা এবং লিম হিম কুকের অর্থায়নে সেখানে গড়ে উঠছে স্কুল-মাদ্রাসা এবং এতিমখানা।

এ ব্যাপারে লিম হিম কুকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজের অসহায়, নিরীহ ও সুবিধা বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো। বাংলাদেশের পাশাপাশি তিনি মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, লাউস, ভারত ও আফ্রিকাতে কাজ করে যাচ্ছেন। সারা জীবন তিনি অসহায়দের পাশে কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীন বলেন, পৃথিবীতে এখনো অনেক মানুষ আছেন যারা অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য সাহায্য করে থাকেন। লিম হিম কুকও তাদের মধ্যে একজন। তিনি যে সাহায্য ও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন, এ জন্য তাকে মির্জাপুরের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু