পুঁজিবাজারে ৪৯ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ বড় দরপতন

গতকাল পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত আট দিন ধরে টানা দরপতন হচ্ছে। এরমধ্যে গতকাল রবিবারই সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে। এদিন ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৫৩ পয়েন্ট। যা গত ৪৯ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন। টানা আট দিনের টানা দরপতনে সূচক কমেছে ১৮৪ পয়েন্ট।

এদিকে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে বর্তমানে যে দরপতন হচ্ছে তা মূলত দর সংশোধন। কারণ এর আগে বাজারে সূচক বেড়েছে ব্যাপকভাবে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৮৩ পয়েন্টে। যা বাড়তে বাড়তে গত ৪ এপ্রিল ৫ হাজার ৭৭৭ পয়েন্টে উঠে আসে। অর্থাত্ তিন মাসে সূচক বেড়েছে ৬৯৪ পয়েন্ট। এর মধ্যে সূচকের ওঠানামা ছিল। একটানা সূচক এখানে উঠে আসেনি। এ সূচক বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর। এ খাতের কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শেয়ারের দাম বেড়েছে। এ সময়ে বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ারের দাম ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। আর ব্যাংকগুলোর শেয়ার ও মূলধন বেশি হওয়ায় সূচকেও এর প্রভাব ছিল বেশি। এখন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দর সংশোধন হতে শুরু করেছে। তাই ডিএসইর সূচকেও সংশোধন হতে শুরু করেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে যে দরপতন হচ্ছে তা নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এটাই বাজারের স্বাভাবিক নিয়ম। বরং এখন সূচক কমে যাওয়ায় বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে বাজারে একটানা দরবৃদ্ধি বা দর পতন হতে থাকলে কিছুটা আশংকা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। গত কয়েক মাস ধরে দেখা যাচ্ছে যখন বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয় তখন বাড়তেই থাকে। আবার যখন দরপতন হয় তখন দর পতন হতেই থাকে। এর কারণ জানতে চাইলে ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের তুলনায় ব্যাক্তি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেশি। অথচ বিশ্বের অন্য দেশগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ অনেক বেশি। আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কম হওয়ায় বাজারে অনেক সময়ই কোম্পানির শেয়ারের দাম মেরিট অনুযায়ী ওঠানামা করে না। বাজারের সূচকেও দেখা যায় একই প্রবণতা। তাই বাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের সংখ্যা বাড়াতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এটা করা সম্ভব হলে বাজারে সূচকের ওঠানামা এবং কোম্পানির শেয়ারের দামের ওঠানামা যৌক্তিকভাবে হবে।

তথ্যে দেখা গেছে, গত ৪ এপ্রিল ডিএসইএক্স মূল্যসূচক ছিল ৫ হাজার ৭৭৭ পয়েন্টে। যা সূচকটির যাত্রার পর ( সোয়া ৪ বছর) সর্বোচ্চ। এরপর থেকে সূচক টানা ৮ কার্যদিবস ধরে কমছে। এতে সূচক ৫ হাজার ৫৯৩ পয়েন্টে এসে দাঁড়িয়েছে। যা গত ৭ মার্চের পর সর্বনিম্ন। গতকাল ডিএসইতে ৭২৪ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যা আগের কর্মদিবস ছিল ৫৯৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ১২৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২৬টি  কোম্পানির মধ্যে ৯০টি বা ২৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে দাম কমেছে ১৯৬টি বা ৬০ শতাংশ কোম্পানির। টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের শেয়ার। এদিন কোম্পানিটির ৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সিটি ব্যাংকের শেয়ারে লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আর ইভিন্স টেক্সটাইলের শেয়ারে লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এদিন অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ৯৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৪৯৮ পয়েন্টে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৭ কোটি ২০ লাখ টাকা।

আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস্-এর দৈনন্দিন বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গতকাল বাজারে বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোতে বেশি দরপতন হয়েছে। ফলে সূচক অনেক কমে গেছে। তবে লেনদেনের ক্ষেত্রে আগেরদিনের মতো শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে বস্ত্র খাত। এ খাতে লেনদেন হয়েছে ১৭৭ কোটি টাকা। যা ডিএসইর মোট লেনদেনের সাড়ে ২৪ শতাংশ।

ইত্তেফাক/নূহু