পার্কের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের

দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন-হাইয়ের বিরুদ্ধে সোমবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন দেশটির সরকারি কৌসুলিরা। তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
 
পার্কের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম শুরু করবে সিউলের সেন্ট্রাল ডিসট্রিক্ট কোর্ট। ধারণা করা হচ্ছে, তার মামলা পরিচালনা করতে তিন বিচারকের সমন্বয়ে একটি প্যানেল গঠন করা হবে। শিগগিরই প্রথম শুনানির তারিখও ধার্য করা হবে। এর আগে গত ৩০ মার্চ সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক কোর্ট পার্ক জিউন-হাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, বলপ্রয়োগ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস করে দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
 
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন ৬৫ বছর বয়সী পার্ক। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে। পার্কের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি তার বন্ধুকে দুর্নীতি করার সুযোগ করে দেন। পার্ক জিউন-হাইয়ের বন্ধু চোই সুন-সিল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্কের সুবাদে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদানের নামে ৬৫.৫ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেন। এর মধ্যে স্যামসাং এবং হুন্দাইয়ের মতো কোম্পানিও রয়েছে। ওই অর্থ সন্দেহভাজন একটি ফাউন্ডেশনের নামে নেওয়া হয়। পরে তিনি সেখান থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হন। ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি সত্যি প্রমাণিত হলে ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে পার্কের।
 
গত ১০ মার্চ পার্ককে অভিশংসিত করার বিষয়ে পার্লামেন্টের নেওয়া সিদ্ধান্তটি বহাল রাখে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। আর এর মধ্য দিয়ে চূড়ান্তভাবে ক্ষমতাচ্যুত হন হাই। এর আগে পার্লামেন্টে তার অভিশংসন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ২৩৪টি এবং বিপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র ৫৬টি।  বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। আগামী ৯ মে সেখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিবিসি ও আল জাজিরা।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির