নেত্রকোনায় ৬৫০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে কৃষকের ঘরে ঘরে চাপা কান্না। পচা ধান নিয়ে বসে আছেন তারা। গতকাল সোমবার পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ৪৭ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমির বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। তবে বেসরকারি হিসাবে আরো বেশি। টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ শত কোটি টাকা ।

জেলা প্রশাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, খালিয়াজুরী, মদন, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা, বারহাট্টা, নেত্রকোনা, আটপাড়া, পূর্বধলা ও কেন্দুয়া উপজেলার ৮৬ হাজার ৩৮৫টি পরিবার বা ১ লাখ ১০ হাজার ৪৭০ জন কৃষক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে অর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। ইতোমধ্যে ২১ লাখ টাকা ও ২১৫ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ড. মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, জেলার ৯টি উপজেলায় খোলা বাজারে চালও আটা বিক্রি শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কর্মসৃজন কাজ সৃষ্টির জন্য সরকারের নিকট দাবি জানিয়েছেন।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ও পাহাড়ি ছড়ার পানিতে উপজেলার শমশেরনগর, পতনউষার ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বোরো ধান পচে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা নদী খনন ও ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন দাবিতে গতকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ইউএনও’র মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, সুচিন্তিত সুপারিশসহ স্মারকলিপিটি দ্রুত প্রধানমন্ত্রী বরাবরে প্রেরণ করা হবে। কৃষকরা ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামত, লাঘাটা নদীর পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ, খনন ও সংস্কার, অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, কৃষিঋণ বিতরণ ও পূর্বের কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ করার দাবি জানান।

জগন্নাথপুরে নদী, হাওরে

মাছ মরে ভাসছে

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় হাওরে পানিতে তলিয়ে যাওয়া ফসল পচে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। গত রবিবার সকাল থেকে শুরু হওয়ায়  বাতাসের সাথে ভেসে আসা দুর্গন্ধে লোকজন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। মত্স্য আহরণকারী লোকজন জানান, নলুয়া, মইয়া ও পিংলার হাওর ও নলজুর নদীসহ উপজেলার সব ক’টি জলাশয় ছোট মাছ  এবং এক কেজি থেকে ১০ কেজি ওজনের অসংখ্য বড় মাছ মরে ভেসে উঠছে। লোকজন ভাসমান রুই, কাতলা, বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরছেন। হাওর ও নদীতে এভাবে জীবন্ত মাছ তীরবর্তী স্থানে ভেসে   আসার দৃশ্য সকলকেই হতবাক করে দিয়েছে। উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা ওয়াহিদুল আবরার জানান, পানিতে ফসল পচে যাওয়ায় এমোনিয়া গ্যাস সৃষ্টি হওয়ায় মাছ মরে যাচ্ছে। এমোনিয়ামুক্ত করতে নলজুর নদীসহ হাওরগুলোতে গতকাল সোমবার ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ এসব মাছ ধরা এবং খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জে শ্রমিকের মজুরি

ও নৌকার ভাড়া দ্বিগুণ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শ্রমিকের মজুরি ও নৌকার ভাড়া দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জমির মালিকরা এখন ধান কেটে আনার সাহস করতে পারছে না। তবে ছোট ছোট ডিঙি নৌকার মালিকরা মহাখুশী। অকাল বন্যায় তাদের যেন পোয়াবারো। ডিঙি নৌকার মালিকরা জানান, গত বছর এই মৌসুমে নৌকা ভাড়া ছিল দৈনিক ১৫শ থেকে ১৮শ টাকা, অথচ এইবার দৈনিক ৩ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি ৭শ থেকে ৮শ টাকা।

ইত্তেফাক/নূহু