ভ্যান চালিয়ে জীবনের চাকা সচল রেখেছেন প্রতিবন্ধী লতিফ

দুটি পা তার অকেজো। হাঁটতে পারেন না। তাতে কি, জীবন তো আর থেমে থাকে না। তাই জীবনের চাকা সচল রাখতে প্রতিবন্ধী আব্দুল লতিফ হাওলাদার (৫২) ইঞ্জিনচালিত ভ্যান চালিয়ে জীবিকানির্বাহ করছেন। চরম দরিদ্রতার মধ্যেও কলেজে পড়াচ্ছেন দুই মেয়েকে। লতিফ হাওলাদার খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা সরদারডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।

আব্দুল লতিফ হাওলাদার বলেন, স্ত্রী, দুই মেয়ে ও বৃদ্ধা শাশুড়িকে নিয়ে তার সংসার। কিন্তু দরিদ্রতা পিছু ছাড়ছে না তার। পাঁচ বছর বয়সে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে দুটি পা বিকল হয়ে যায়। দরিদ্র বাবা-মায়ের পক্ষে উন্নত চিকিত্সা করানো সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় মাত্র ১০ বছর বয়সে অকেজো দুটি পা নিয়েই সংসারের হাল ধরতে হয় তাকে।

প্রথমে ভিক্ষাবৃত্তি দিয়ে জীবন শুরু হয় তার। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর স্ত্রী রাশিদা বেগমের সঙ্গে সংসার শুরু করেন। বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে কাজ করে স্ত্রীর সামান্য উপার্জন এবং তার সারাদিনের ভিক্ষার টাকা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলতো। এর মধ্যে দুই মেয়ে বড় হওয়ায় তাদের লেখাপড়ার খরচ বাড়তে থাকে। বড় মেয়ে নাজমুন নাহার খুলনা সরকারি বিএল কলেজের বিবিএস’র প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ছোট মেয়ে হিরা মনি খুলনা মহিলা পলিটেকনিক কলেজের এনভায়রনমেন্টাল বিভাগের চতুর্থ পর্বে পড়ছে। এ অবস্থায় ২০১৩ সালে টাকা ধার করে একটি ইঞ্জিনচালিত ভ্যান তৈরি করেন। কিন্তু পা কাজ না করায় প্যাডেল ঘোরাতে পারেন না তিনি। তবে ভ্যানটি ইঞ্জিন চালিত হওয়ায় হাতে হ্যান্ডেল ধরেই শুরু হয় তার নতুন সংগ্রাম।

তিনি বলেন, প্রতিমাসে তিনি প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে পাঁচশ টাকা করে পান। এতে তার এবং স্ত্রীর ওষুধের খরচও হয় না। সংসার ও মেয়েদের পড়ালেখার খরচ যোগাতে বাধ্য হয়ে ভ্যান চালাতে হচ্ছে তাকে। সংগ্রামী জীবন থেকে মুক্তি পেতে প্রতিবন্ধী লতিফ হাওলাদার সরকারের কাছে তার বড় মেয়ের জন্য একটি ছোট-খাটো চাকরি দাবি করেছেন।

ইত্তেফাক/নূহু