রোনালদোর হ্যাটট্রিকে বায়ার্নকে বিদায় জানিয়ে সেমিফাইনালে রিয়াল

 
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিকে ১০জনের বায়ার্ন মিউনিখকে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে অতিরিক্ত সময়ে ৪-২ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নস লীগের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। এই তিন গোলে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লীগে শততম গোলের রেকর্ড করেছেন পর্তুগীজ তারকা।
 
সানতিয়াগো বার্নাব্যুতে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নির্ধারিত সময়ে বায়ার্ন ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল। প্রথম লেগের ম্যাচে রিয়াল বেভারিয়ান্সদের মাঠ আলিয়াঁজ এরিনাতে ২-১ গোলে জয়ী হওয়ায় ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে রোনালদো যাদুতে বায়ার্নকে হতবাক করে দিয়ে টানা সপ্তমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে রেকর্ড গড়েছে গ্যালাকটিকোরা। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সেমিতে উঠেছে জিনেদিন জিদানের দল। পোলিশ তারকা রবার্ট লিওয়ানোদোস্কির গোলে বিরতির পরপরই এগিয়ে গিয়েছিল বায়ার্ন। ৭৬ মিনিটে ম্যাচে সমতা আনেন রোনালদো। কিন্তু এক মিনিট পরেই সার্জিও রামোসের আত্মঘাতি গোলে বার্নাব্যুর সমর্থকরা মুষড়ে পড়ে। কিন্তু ম্যাচের নাটকীয়তা তখনো অপেক্ষা করছিল রিয়ালের জন্য। আরটুরো ভিডালের ৮৪ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে মাঠ ত্যাগে নড়েচড়ে বসে স্বাগতিকরা। একের পর এক আক্রমনে বায়ার্ন রক্ষণভাগকে বিধ্বস্ত করে তুলে। ১০৪ মিনিটে অধিনায়ক রামোসের সহায়তায় ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় প্রথমে শততম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন রোনালদো। এর পাঁচ মিনিট পরে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। অবশ্য হ্যাটট্রিক পূরণের পুরো কৃতিত্বই দেয়া যেতে পারে ব্রাজিলিয়ান তারকা মার্সেলোকে। তার সহায়তায় এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন সিআর সেভেন। যদিও রোনাল্ডোর দ্বিতীয় ও তৃতীয় গোলটি স্পষ্টভাবেই অফ-সাইড ছিল, ম্যাচ শেষে বায়ার্নের এই দাবী অনেকেই যৌক্তিক হিসেবে মেনে নিয়েছে।
 
ম্যাচ শেষে পর্তুগীজ স্ট্রাইকার স্প্যানিশ টেলিভিশিন স্টেশন এ্যান্টেনা ৩’এ বলেছেন, ‘বায়ার্নের মত দলের বিপক্ষে ৬ গোল করা মোটেই সহজ কিছু নয়। সে কারণে বলতে হয় আজকের এই জয়টা আমরা অর্জন করেছি। রিয়াল মাদ্রিদ রিয়াল মাদ্রিদই। আমরা বিপদ থেকে নিজেদের ফিরিয়ে আনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আরেকবার সেমিফাইনালের টিকিট পেয়ে আমরা সত্যিই আনন্দিত।’
 
১১২ মিনিটে ২১ বছর বয়সী স্প্যানিশ তরুন মিডফিল্ডার মার্কো আসেনসিওর একক প্রচেষ্টায় দেয়া শেষ গোলটি বায়ার্নের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকেছে। ম্যাচ শেষে অবশ্য বায়ার্ন কোচ কার্লো আনচেলত্তি বাজে রেফারিংকেই দলের এই পরাজয়ের পিছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। গত মৌসুমে রিয়ালকে চ্যাম্পিয়নস লীগের শিরোপা উপহার দেয়া সাবেক এই কোচ বলেন, আরটুরোর লাল কার্ডটি মোটেই সঠিক ছিল না। তার উপর ক্রিস্টিয়ানোর দুটি গোলই স্পষ্ট অফ সাইড ছিল। আমরা মোটেও সন্তুষ্ট নই। কোয়ার্টার ফাইনালে অবশ্যই ভাল রেফারি দিতে হবে অথবা সময় এসেছে ভিডিও রেফারিং পদ্ধতি চালু করার। প্রতিটি ম্যাচে এত বেশী ভুল হচ্ছে যে ইউয়েফার অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা উচিত।
 
এর আগের চারটি স্পেন সফরে একটি গোলও না করে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা পরাজিত হয়েছিল। তবে কালকের সমীকরণটি কিছুটা সহজ ছিল বায়ার্নের জন্য। মাত্র দুই গোল করতে পারলেই তাদের সামনে সামনে এগিয়ে যাবার সুযোগ ছিল। ম্যাচ শুরুর আট মিনিটের মধ্যেই দারুন একটি সুযোগও এসেছিল। থিয়াগো আলকানটারার শট অবিশ্বাস্য ভাবে আটকে দেন মার্সেলো। রিয়ালের সাবেক উইঙ্গার আরিয়েন রবেনের শট সাইট নেট দিয়ে বাইরে চলে যায়। প্রথম লেগের মতই বিরতির আগে মাদ্রিদ বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি। রামোসের একটি প্রচেষ্টা লাইনের উপর থেকে ক্লিয়ার করেন জেরম বোয়াটেং। বিরতিতে যাবার আগে কোন দলই গোলের দেখা পায়নি। তবে বিরতির সময় বায়ার্ন সমর্থকরা পুলিশের সাথে কিছু সময়ের জন্য বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিল।
 
যদিও বিরতির পরপরই জার্মানী থেকে উড়ে আসা চার হাজার সমর্থকের জন্য বায়ার্ন কিছুক্ষনের জন্য হলেও আনন্দের খোড়াক যুগিয়েছিল। রবেনের দুর্দান্ত শট আরেকবার লাইনের উপর থেকে রক্ষা করেন মার্সেলো। কিছুক্ষণের জন্য হলেও স্বাগতিক শিবিওে স্বস্তি ফিরে এলেও রেফারী ভিক্টর কাসাই কাসেমিরোর রবেনকে ফাউলের সুবাদে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। চাপের মধ্যেও মাথা ঠান্ডা রেখে স্পট কিক থেকে মৌসুমের ৩৯তম গোল আদায় করে নেন লিওয়ানোদোস্কি। ৭৬ মিনিটে কাসেমিরোর ক্রস থেকে রোনাল্ডো রিয়ালের পক্ষে সমতা ফেরান। যদিও রিয়ালের এই উল্লাস বেশীক্ষন স’ায়ী হয়নি। মিনিটখানেক পরেই বঙ্রে ভিতর থেকে একটি বল রামোস ব্যাক পাস দিতে গিয়ে তা জালে জড়ালে আত্মঘাতি গোলের লজ্জায় ডুবে স্বাগতিক শিবির।
 
ম্যাচ শেষের পাঁচ মিনিট আগে আসেনসিওকে ফাউলের অপরাধে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে ভিডাল মাঠ ত্যাগ করলে ১০জনের দলে পরিণত হয় বায়ার্ন। আর এই কার্ডেই ভাগ্য ফিরে রিয়ালের। অতিরিক্ত সময়ের দুই অর্ধে তিন গোল করে রিয়াল নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমান দেয়।

ইত্তেফাক/মণ্ডল