‘ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করে’

অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে

গত বছরের ৩১ জানুয়ারি যোগদান করে একবছর অতিবাহিত করেন। সম্প্রতি ইত্তেফাকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাত্কারে তিনি দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামগ্রিক চিত্র,

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক সমস্যা ও উত্তরণের নানা দিক তুলে

ধরেন। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন— সজীব বণিক

g   শিক্ষার্থীদের দাবি কুবিতে ছাত্র সংসদ গঠন করা হোক। এ ব্যাপারে আপনার ভাবনা কি?

     উপাচার্য: আমি মনে করি, প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ থাকা দরকার। সরকার চাইলে অচিরেই কুবিতেও ছাত্র সংসদ গঠন করা হবে, নির্বাচন হবে। ছাত্র সংসদ থাকলে শিক্ষার্থীদের কথা বলার সুযোগ নিশ্চিত হয়, অধিকার নিশ্চিত হয়। কারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদের মাধ্যমে তাদের অধিকার সবার সামনে তুলে ধরতে পারে।

g   ডাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের কতোটুকু আস্থা অর্জন করেছে বলে মনে করেন আপনি?

     উপাচার্য: দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হয়েছে যা নিঃসন্দেহে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যে সবচেয়ে বড় অর্জন। বর্তমান সরকার বরাবরই শিক্ষার্থীদের অধিকার সচেতনে বদ্ধপরিকর। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তো আর স্বৈরাচারী নয় যে, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মেনে নিবে না। ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিগুলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট তুলে ধরতে পারবে এবং কর্তৃপক্ষও বিবেচনা সাপেক্ষে দাবিগুলো পূরণ করে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।

g   কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের প্রথম বছর শেষে আপনি কতোটুকু সফল?

     উপাচার্য: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর অনেক কাজ করেছি। শিক্ষার্থীদের পড়ার সুবিধার্থে ই-লাইব্রেরি চালু করেছি। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ রাস্তার টেন্ডার করে দিয়েছি। মাঠের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। আরো কাজ হাতে রয়েছে যা শীঘ্রই শুরু হবে। তাছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের চেহারাই বদলে যাবে।

g   অভিযোগ আছে, কুবিতে শিক্ষক নিয়োগে মেধাবীদের প্রাধান্য দেওয়া হয় না। এ ব্যাপারে কিছু বলুন?

     উপাচার্য: বর্তমানে সবকিছু বাছাই করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি। আমি জানি, মেধাবীরা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ না পেলে কখনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালো প্রোডাক্ট বের হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার জন্যে সবকিছু মাথায় রেখে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে মেধাবীদের মূল্যায়ন করছি।

g   পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা অপেক্ষা শিক্ষার্থীরা রাজনীতিতে বেশি ঝুঁকছে। আপনার অভিমত কি?

     উপাচার্য: রাজনীতি সচেতন সব শিক্ষার্থীকে হওয়া উচিত। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেই রাজনীতি করতে হবে এমন নয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও সঠিক ইতিহাস বুকে লালন করে রাজনীতি করা উচিত। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের সমস্ত হতাশা থেকে দূরে রাখার জন্য অবশ্যই লাইব্রেরির সুন্দর পরিবেশ, সংস্কৃতি চর্চার অবাধ পরিবেশ ও বিভিন্ন ধরনের খেলা চালু করবো। এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকবে এবং রাজনীতির সুষ্ঠু চর্চাও হবে।