কামরুল হাসান শাকিম
মুস্তাকিম হূদয়, পড়াশোনা করছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষে। ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পড়াশোনা করলেও তার আরেকটি গুণ হচ্ছে বর্তমানে তিনি ক্যাম্পাসে “দাবা চ্যাম্পিয়ন” নামেই পরিচিত। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েও দাবার প্রতি আগ্রহী হবার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তার যুক্তি ও বুদ্ধির চর্চা করতে ভালো লাগতো। সেখান থেকেই মূলত ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার স্বপ্ন জাগে। পৃথিবীর অন্য যেকোনো খেলার চাইতে দাবা খেলায় সবচেয়ে বেশি যুক্তি ও বুদ্ধির চর্চা করা যায়। তারচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, খেলাটার প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়া থেকেই এ পথে আসা। কোনো সৃষ্টিশীল কাজকে ভালোবাসলে যেকোনো ব্যাকগ্রাউন্ড থেকেই ভালো কিছু করা সম্ভব বলেও তিনি বিশ্বাস করেন। তবে দাবা খেলার এ পথে আসার অসাধারণ একটা কাহিনী আছে আর তা হলো ২০১৭ সালের শুরুর দিকে জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে বেশ হতাশায় ভুগে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতেও গিয়েছিলেন কিন্তু ব্রিজ থেকে লাফ দেয়ার সময় নদীতে নৌকা দেখে দাবা খেলার নৌকার কথা তার মনে পড়ে। ব্যস এরপর থেকে নিয়মিত দাবা খেলা শুরু করেন। ইউটিউবে ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে, ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় বিভিন্ন দেশের দাবাড়ুদের সাথে অনলাইনে খেলে দাবাকে নিজের হাতের কব্জায় নিয়ে এসেছেন। তাছাড়া বিভিন্ন সাইটে টিউটোরিয়াল থেকে পড়াশোনা করে আরো ভালো খেলোয়াড় হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় হূদয় অংশগ্রহণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে নিজ ডিপার্টমেন্ট দলকে একবার চ্যাম্পিয়ন ও একবার রানার্স আপ করতে পেরেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ দাবাড়ু প্রতিযোগিতায় চ্যামিপয়ন হয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত তানভীর সাজ্জাদ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এরপর মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত নোয়াখালী জেলায় অনুষ্ঠিত ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল দাবা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ২০১৮-তে আন্তর্জাতিক ফিদে রেটিং অর্জনের জন্য একটি জাতীয় টুর্নামেন্ট খেলায় বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। পুরো টুর্নামেন্ট ছিলো ৯ দিনের। তবে ৫ দিন খেলার পর হুট করে অসুস্থতার কারণে আর খেলতে পারেননি। তারপরও ভালো পারফরম্যান্সের কারণে তাকে ১৮৬৬ রেটিং দেয়া হয়েছিল। এছাড়া ২০১৮’র জানুয়ারিতে বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় দাবা প্রতিযোগিতায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ১নং বোর্ডে খেলে মোট ৫টি ম্যাচের মধ্যে ৪টিতে জিতেছিলেন। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে জয়টা সবচেয়ে স্মরণীয় ও আনন্দের ছিল বলে জানান হূদয়।
দাবা নিয়ে ভবিষ্যতে সুপার গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। স্বাধীনতার পর থেকে গত ৪৮ বছরে এ দেশে গ্র্যান্ডমাস্টার হতে পেরেছেন মাত্র ৫ জন। আর সুপার গ্র্যান্ডমাস্টার একজনও হতে পারেননি। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, চীন দাবাতে অনেক এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের দাবাকে আরো ভালো পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্নের কথা জানান তিনি। তার ছোট মামা ও দুলাভাই দাবায় ভালো করার বিষয়ে যথেষ্ট অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন। আগামীতে জাতীয় দাবা টুর্নামেন্টগুলোতে অংশগ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আরো সুনাম বয়ে আনাটাই বর্তমানে তার ইচ্ছা।