ফারজানা ইয়াসমিন
ধরেন আমি পড়াশুনা করলাম, কিন্তু আমি কোনো জব করি না। তবে আমি তো শিক্ষিত। হতে পারে বিয়ের পর কারো পরিবার তাকে ঘরের বাইরে কাজ করতে দিতে চায় না। আবার হতে পারে সে ধার্মিক। এসব কারণে থেমে আছে। আবার কারো সন্তান হওয়ার কারণে থেমে আছে। এই থেমে থাকা কি একেবারেই থেমে থাকা? আমি সেটাতে মানতে রাজি নই। তাই আমার লক্ষ্য হচ্ছে যেসব মেয়ে শিক্ষিত কিন্তু থেমে আছে তাদেরকে নিয়ে কাজ করা। সেজন্যই আমি অনলাইন কোর্স চালু করেছি। এতে যে কেউ ঘরে বসেই নিজের মতো করে আয় করতে পারেন। নিজের কাজের শুরুর বিষয়ে এভাবেই বলছিলেন তরুণ উদ্যোক্তা মোরশেদা মৌরী। পুরো অনলাইনভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষিত নারীদের আয়ের সুযোগ করে দিচ্ছেন তিনি। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেখানে গ্রাফিক্সের ট্রেনিং নিতে আপনার ৩০-৪০ হাজার টাকা লাগে, সেখানে তিনি ১০ হাজার টাকার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। কেউ চাইলে কিস্তিও দিতে পারেন। এই কোর্সটা স্নাতকধারীরাই করার সুযোগ পান। এই কোর্সটি দুই মাস মেয়াদের। প্রথম দিন থেকেই একদম হাতে-কলমে কাজ শেখানো হয়। দুই মাস পর আজীবন সহযোগিতা করা হবে।
মোরশেদা মৌরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি নিয়ে পড়াশোনা করেন। তারপর তিনি চীন থেকে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির ওপর একটি ডিগ্রি নেন। তারপর বেশকিছু দিন ট্যুরিস্ট পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেন তিনি। পেশাগত জীবনে আপনি কি কি চ্যালেঞ্জের এর সম্মুখীন হয়েছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, পেশাগত জীবনে আমি যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছি তার মধ্যে প্রথমেই আমি যেটা বলতে চাই সেটা হচ্ছে যাতায়াত ব্যবস্থা। মানে বাসা থেকে অফিস, আবার অফিস থেকে বাসায় আসতে আমাকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, বিশেষ করে গর্ভাবস্থায়। কারণ একজন মেয়ে গর্ভাবস্থায় চাকরি করছে, বাসে চড়ে যাতায়াত করছে এটা কে মানুষ ভালোভাবে দেখে না। তারা বলে যে, এ অবস্থায় একজন মেয়ের বাসা থেকে বের হওয়ার দরকার কী। আমার পেশাগত জীবনে ঢাকায় অফিসে যাতায়াত করাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মনে হয়েছে। আবার নারী হিসেবে কাজ করাটাকে মানুষ পজিটিভলি নেয় না। একটা অফিসে কাজ করে পুরুষরা যে সম্মান পায় নারীরা সেটা পায় না।