দেশের ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে চাই

  আহাদ চৌধুরী তুহিন

 

দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ও ট্যুরিজমকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সমগ্র দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন জামালপুরের মেয়ে ভ্রমণকন্যা ও লেখক এলিজা বিনতে এলাহী। ইতিমধ্যে তিনি দেশের ৪০টি জেলা ভ্রমণ করেছেন। আসছে জুনের মধ্যে দেশের সব কয়টি জেলা ভ্রমণ করবেন তিনি। সম্প্রতি ৩৮তম জেলা হিসেবে দ্বীপজেলা ভোলা ঘুরে গেছেন এ ভ্রমণকন্যা।

সরেজমিন ঘুরে তিনি দেশের প্রাচীনতম ইতিহাস ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর তথ্য, ভিডিও ও স্থিরচিত্র সংগ্রহ করছেন। এতে একদিকে যেমন নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য জানার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে দেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর নাম ও পরিচিতি।

বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এসএম ইলাহী নেওয়াজ ও জামালপুরের সাবেক সংসদ সদস্য বেগম রহিমা খন্দকারের একমাত্র কন্যা বাংলাদেশি এ ভ্রমণকন্যা এলিজা বিনতে এলাহী বলেন, বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক বা হেরিটেজ ট্যুরিজমে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। কিন্তু এগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণের তেমন উদ্যোগ নেই। তিনি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক জনপদ ঘুরে সেসব স্থানের তথ্য তুলে এনেছেন। দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে যা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে  শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি দেশে পর্যটন শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করছেন।

ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এলিজা বলেন, সারাদেশে ছড়িয়ে আছে বহু প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা যা হেরিটেজ ট্যুরিজমকে করতে পারে সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময়। এসব ঐতিহ্যবাহী  স্থাপনাগুলোকে সংরক্ষণ ও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির কাজে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ করছেন তিনি। এলিজা বিনতে এলাহী ১৯৯৯ সাল থেকে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো ভ্রমণ শুরু করেন, যা এখনো অব্যাহত আছে। গত ২০ বছরে এ পর্যন্ত ইউরোপ ও এশিয়ার ৪৬টি দেশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ভ্রমণ সমাপ্ত করেন। তার ভ্রমণ করা প্রতিটি দেশেই মেলে ধরেছেন লাল সবুজের বাংলাদেশের পতাকা।

 দেশের বাইরে ঘুরতে গিয়ে নিজ দেশের স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখার তাগিদ থেকে ২০১৬ সাল থেকে হেরিটেজ ট্যুর শুরু করেন তিনি। ঢাকার বলধা গার্ডেন দিয়ে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাস সংগ্রহের কাজ শুরু হয় এলিজার। এখন পর্যন্ত  ভোলাসহ মোট ৪০টি জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো প্রাথমিকভাবে ভ্রমণ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করেন এলিজা।

ভ্রমণ নিয়ে ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ব ট্রাভেলার এলিজা বলেন, সমগ্র বাংলাদেশ ভ্রমণ শেষ করে সংগৃহীত তথ্য, স্থিরচিত্র ও ভিডিও দেশ ও জাতির উপকারে লাগে সে ব্যাপারে ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। যার মধ্যে প্রতিটি বিভাগ এবং সম্ভব হলে জেলাভিত্তিক বই ও স্থিরচিত্র দিয়ে তথ্যবহুল ছবির অ্যালবাম প্রকাশ করতে চাই। টেলিভিশন ও ইন্টারনেটে ভিডিও ডকুমেন্টারি ও ট্রাভেল শো করারও ইচ্ছা আছে।

বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয়ভাবে হেরিটেজ ফেয়ারের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে হেরিটেজ ট্যুরিজমকে বিস্তৃত করার পাশাপাশি ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো যেন সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয় সে ব্যাপারে দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্ট মহলের কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

ভ্রমণ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা প্রতিকূলতায়  পড়তে হয়েছে তাকে। একজন নারী হিসেবে ভ্রমণ করতে গিয়ে বিভিন্ন জেলায় আবাসন সংকটে পড়তে হয়েছে। এক্ষেত্রে সবসময় একজন পুরুষের সাহায্য নিতে হয়েছে যা কাজের কিছুটা হলেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে সহযোগিতাও পেয়েছেন তিনি।

বিশ্ব পর্যটক এলিজা বিনতে এলাহী চলতি মাসের ২২ ও ২৩ মার্চ  ভ্রমণ করেন দ্বীপজেলা ভোলা। এ জেলার  চরফ্যাশন ও ভোলা সদরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দর্শনীয় স্থানের স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণ করেন তিনি। ভোলা সম্পর্কে এলিজা বলেন, ভোলার ভূপৃষ্ঠেই ভোলার হেরিটেজ। কারণ ১২৩৫ সালের দিকে এ অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠ গঠিত হয়। আর ১৩০০ সালের দিকে মানুষের বসতি ও চাষাবাদ শুরু হয়। তাই এ অঞ্চলের মানুষ আর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আমাদের হেরিটেজের অংশ।

এশিয়ার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে রয়েছে তার দু’টি প্রকাশনা। যার একটি এলিজা’স  ট্রাভেল ডায়েরি’ ও অপরটি ‘এলিজা’স  ট্রাভেল ডায়েরি-২’।