রাঙ্গামাটিতে রমেল চাকমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অবরোধ পালিত হয়েছে। এ সময় দুই এক জায়গায় যানবাহন ভাংচুরের ঘটনা ঘটলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। দূর পাল্লার বাস ও নৌপথে যান চলে নি তবে স্থানীয়ভাবে যানবাহন চলাচল করেছে।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি সশস্ত্র গ্রুপ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য প্রপাগাণ্ডা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে তারা রোমেল চাকমার লাশ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পুড়িয়ে ফেলেছে বলে প্রচার চালিয়েছে।
তবে সাধারণ পাহাড়িদের দৃষ্টি কাড়ার জন্য এসব চালানো হচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানায়। সরেজমিনে জানা গেছে, যেভাবে প্রপাগান্ড চালানো হচ্ছে ব্যাপারটি আসলে এমন নয়। নানিয়ার চর থানার ওসি আবদুল লতিফ জানান, গত শুক্রবার রমেল চাকমার বাবা বিনাই কান্তি, তার মামা কোনেন্দ্র চাকমা, চাচা বিজয় লাল চাকমা এবং তিনজন স্থানীয় ইউপি সদস্য- অংশু প্রো মারমা, শফিকুল ইসলাম, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছা. নেখজান তাদের উপস্থিতিতে রমেল চাকমার সৎকার শেষ করে। বেলা ১টা ৪০ থেকে ৩টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত তার সৎকার চলে। এ সময় পুলিশ পাহারায় ছিল।
এ ব্যাপারে এলাকাবাসী বলেন, রমেলের লাশ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পুড়িয়েছেন এ খবর ভুয়া। এটা সঠিক নয়। আমরা সাধারণ মানুষ, শান্তি চাই।
উল্লেখ্য, ইউপিডিএফ সশস্ত্র রিবেন গ্রুপের সদস্য রমেল চাকমার মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে আজ রবিবার সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দেয় ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, ইউপিডিএফ।
নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ২৩ জানুয়ারি ট্রাক পোড়ানোর ঘটনায় এবং এলাকাবাসীর দেয়া তথ্য ও নিরাপত্তা বাহিনী তার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয় যে, ট্রাক পোড়ানোর ঘটনায় রমেলসহ ইউপিডিএফ-এর সশস্ত্র রিবেন গ্রুপের ২৪ জন সদস্য অংশগ্রহণ করে। নিরাপত্তা বাহিনীর এ ট্রাকে অগ্নিসংযোগের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারে যৌথবাহিনী অভিযান শুরু করে। গত ৫ এপ্রিল গোপন সূত্রে সংবাদ পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী রমেল চাকমাকে গ্রেফতারে নানিয়ারচরে অভিযান চালায়। রমেল চাকমা দৌড়ে পাহাড়ের উপরে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করলে পাহাড় থেকে পড়ে গিয়ে চলন্ত বেবিটেক্সির সাথে ধাক্কা লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিত্সক তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ১৯ এপ্রিল রমেল মারা যান তিনি। ময়নাতদন্তের পর রমেলের মামা তার লাশ গ্রহণ করে।
নানিয়ার চর থানার ওসি আবদুল লতিফ জানান, রমেল চাকমার ঘটনায় রবিবার পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়নি।
ইত্তেফাক/পাভেল