দেশে ১৫ ঊর্ধ্ব ৪৩ ভাগ মানুষ তামাকে আসক্ত

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে তামাক এবং মাদকের ব্যবহার বেড়েছে বলে জানিয়েছে মাদকবিরোধী সংগঠন মানস। গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এ সংক্রান্ত গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘তামাক, মাদক ও নারী : প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। বিশেষ অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এডভোকেট সুলতানা কামাল ও দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন।

মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, শুধু সরকারই নয়, মাদকের মূল উত্পাটনে সকল স্তরে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। নানা সংকটে নারীরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়াসহ তাদের মাদক পাচার ও কেনাবেচায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব থেকে প্ররিত্রাণ পেতে সরকার নারী উন্নয়নে ও তাদের স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, মাদকের সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সকলকে সচেতন হতে হবে। মাদকের চাহিদা কমানো ও সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। চাহিদা না থাকলে সরবরাহ হতো না। আর সরবরাহ না থাকলে চাহিদা বন্ধ হয়ে যাবে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বাড়াতে হবে।   

তাসমিমা হোসেন বলেন, মাদকের মরণ ছোবল থেকে আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমের দিকে জোর দেয়া দরকার। ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। কেবল টেলিভিশন আর ভিডিও গেমসের বিনোদেনের উপর নির্ভর করলে হবে না। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সংস্কৃতি চর্চা, খেলাধুলার প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, মাদকের সঙ্গে কালো টাকা, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত। এই চক্রের হাত থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে। আগামীতে মধ্যম আয়ের দেশ হবে বাংলাদেশ। তখন আমাদের দক্ষ মানব সম্পদ দরকার হবে। মাদক ঠেকাতে না পারলে আমাদের জনসম্পদ নষ্ট হয়ে যাবে।

মানসের সভাপতি ড. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ গবেষণায় দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের ১৫ বয়সোর্ধ্ব ৪৩ শতাংশ মানুষ তামাকে আসক্ত। তামাক গ্রহণকারীদের মধ্যে ২৯ শতাংশ নারী। ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ১৫ শতাংশ নারী নানা ধরনের মাদকে আসক্ত বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ৫ বছর আগেও এই সংখ্যা বেশ খানিকটা কম ছিল। তবে তামাক ব্যবহারকারী নারীদের মধ্যে অধিকাংশই এখনো ধোঁয়াহীন তামাকই ব্যবহার করেন। তবে পরোক্ষভাবেও অনেক নারী তামাকের ধোঁয়ার শিকার হচ্ছেন।

গবেষণা গ্রন্থের তথ্যমতে, কর্মক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ এবং জনসমাগমের স্থানে ২১ শতাংশ নারী পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। সরকারিভাবে কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসেবে বাংলাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৫০ লাখেরও বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত মাদক ইয়াবা। ফেন্সিডিলের সরবরাহ কিছুটা কমলেও মিয়ানমার থেকে অবাধে ইয়াবা এসে দেশে সয়লাব হয়ে গেছে। আগের চেয়ে সহজলভ্য হওয়ায় মাদকাসক্তরাও ইয়াবার দিকে ঝুঁকছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মালেকা বেগম, নিউরো ডেভলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক মোঃ গোলাম রব্বানী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সালাউদ্দিন মাহমুদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মানসের সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান তালুকদার ও বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাজমুন নাহার হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রূপা চক্রবর্তী।

ইত্তেফাক/নূহু