মুরাদ আলী (৭০) যৌবনে জীবনবাজী রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর সহযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম তালিকাভুক্ত করতে পারলেও মুরাদ আলী বাদ পড়েন। হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নিলেও রাজমিস্ত্রী পেশায় নিয়োজিত থাকাকালে গত বছর দশেক আগে ষ্ট্রোক করে চলে যান জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে।
সামর্থহীনতা সত্বেও ব্যায়বহুল চিকিৎসা আর মানুষের অকৃত্রিম ভালবাসায় তিনি সে যাত্রায় জীবন ফিরে পেলেও প্যারালাইজড হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। জীবন-জীবিকার নির্মম তাগিদে তাকে শেষ পর্যন্ত বেছে নিতে ভিক্ষাবৃত্তিকে।
মুরাদ আলী উপজেলার আমলা ইউনিয়নের অঞ্জনগাছী গ্রামের মৃত মোজাফ্ফরের ছেলে। স্বাধীনতা যুদ্ধের এই অকুতোভয় বীরসৈনিকের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে ২ বছর আগে দৈনিক ইত্তেফাকে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর অস্ব্চ্ছল মুক্তিযোদ্ধা মুরাদ আলীর সহায়তার জন্য প্রথম সহযোগীতার হাত বাড়ান ঢাকার ‘জেগে আছি’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন। সংগঠনটি ২ বছরের বেশী সময় ধরে মুরাদ আলী ও তাঁর পরিবারের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছেন।
সম্প্রতি মিরপুর উপজেলার উর্মি স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি সংগঠনও অসচ্ছল ওই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। ইতিমধ্যে উর্মি সংস্থা বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মুরাদ আলীর ছোট মেয়ে স্কুল পড়ুয়া মরিয়মকে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে একটি সেলাই মেশিন প্রদান করেছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি মরিয়ম সেলাইয়ের কাজ করে দরিদ্র পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
ইত্তেফাক/নূহু