জেলায় আমতলী উপজেলার আমতলী-ধানখালী-নমরহাট ২৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যবর্তী কাঠালিয়া গ্রামে বাজেসিন্ধু খালের উপর নির্মিত সেতুর স্লিপার ভেঙে গেছে। এর ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া মেরামতের অভাবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্মিত সেতুটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেতুটি রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় লোহার অ্যাঙ্গেল, হাতল ও খুঁটি মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে এলজিইডি’র আমতলী উপজেলা কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে এলজিইডি’র আওতায় হালকা যান চলাচল প্রকল্পের অধীনে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটি ২০০৫ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল। এরপর প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি না করায় সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ইতোমধ্যে সেতুটি জরাজীর্ণ হয়ে তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেতুটির সিমেন্টের স্লিপার, হাতল ও অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। তবে জনগুরুত্বপূর্ণ জায়গায় গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় এলজিইডি।
এদিকে এলাকার বাসিন্দারা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুদ মৃধার উদ্যোগে গাছের গুঁড়ি দিয়ে কোনো রকমে মেরামত করে ঝুঁকি নিয়ে সেতু দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীরা। সেতুটির স্লিপার ভেঙে পড়ায় কাঠালিয়া, গাজীপুর, দক্ষিণ টেপুরা, উত্তর টেপুরা, দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া, উত্তর তক্তাবুনিয়া, নলুয়াবগী গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। এছাড়া সেতুর পশ্চিম পাড়ে কাঠালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক, কাঠালিয়া তাজেম আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাঠালিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ধুলপাড়িয়া বাজার, কাঠালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম মৃধা বলেন, জরুরি ভিত্তিতে এখানে একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা দরকার। এলজিইডিকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে জানানো হয়েছে। এলজিইডি আমতলী উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু