এক পায়ে জীবন যুদ্ধ!

জন্ম থেকে এক পা দিয়ে অযত্নে অবহেলায় বড় হয়ে উঠা এক যুবক আমিনুর রহমান (২৫)। অভাবের সংসারে লেখাপড়া করা হয়নি তার। তাই বলে কি বসে থাকবে জীবন। তিনি এক পা দিয়েই ভ্যান গাড়ী চালিয়ে জীবন যুদ্ধে নেমে পড়েছেন। জীবন সংগ্রামী টগবগে এ যুবক উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের মহিষখোচা কচুমুরা গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে।
    
জানা গেছে, জন্ম থেকে আমিনুরের বাম পায়ের হাঁটু থেকে নিচের অংশটি নেই। প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়াটাই যেন ছিল তার মহাপাপ। অভাবের সংসারে তার কোনদিন স্কুলে যাওয়া হয়নি। জন্মের কিছুদিন পর তার বাবাকে হারান। আর তার মা অন্যের বাসায় ঝিয়ের কাজ ও ভিক্ষাবৃত্তি করে তাকে বড় করে তোলেন। শারীরিকভাবে অক্ষম থাকায় আমিনুর ভ্যান গাড়ি চালাতে থাকেন। তবে তার এক পা না থাকায় সহজেই কেউ তা ভ্যানে মালামাল বহন করতে চায় না। 
 
অনেকটা জোর করেই তিনি ভারী জিনিসপত্র বহন করে থাকেন। ভ্যান গাড়ি চালিয়ে প্রতিদিন একশ বিশ থেকে একশ পঞ্চাশ টাকা আয় হয়। এ আয়েই এক বেলা খেয়ে না খেয়ে চলছে তার ৫ জনের সংসার। আর এভাবেই দীর্ঘ ১৫টি বছর ধরে এ পেশায় জীবন-যাপন করে আসছেন। বড় মেয়ে মিষ্টি বেগম (৯) ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী আর ছোট মেয়ে বৃষ্টি (৬) প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী।
  
সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ চত্বরে কথা হয় আমিনুর ইসলামের সাথে। তিনি জানান, নিজের ভিটে মাটি নেই। সরকারী জায়গায় রাস্তার ধারে ছোট একটি টিনের চালায় তার পরিবারকে নিয়ে বসবাস। অভাব যেন কোন ভাবেই তার পিছু ছাড়ছে না। সরকারীভাবে তার প্রতিবন্ধী ভাতা রয়েছে। প্রতি মাসে সেখান থেকে তিনশ টাকা পেয়ে থাকেন। আর এ টাকা তিনি মেয়ে দুটোর লেখাপড়ার পেছনে ব্যয় করে থাকেন। মাসহ ৫ জনের সংসার ভালই চলত এমনটাই দাবী তার। তিনি সমাজের বিত্তবান লোকদের কাছে সহযোগিতার দাবী জানান।
 
মহিষখোচা ইউপি চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন এক পা নিয়ে সমাজের বোঝা হয়ে থাকতে চান না তিনি। প্রতিদিন ভ্যান গাড়ি চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে অভাবের সংসার। ভ্যান গাড়ির পরিবর্তে একটি ব্যাটারি চালিত অটো রিকসা হলে বৃদ্ধ চৌধুরী জানান, আমিনুর এক পা দিয়েই দীর্ঘদিন যাবত ভ্যান গাড়ি চালিয়ে কষ্টে সংসার চালাচ্ছেন। একটু সহযোগিতা পেলে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির