কোকো দুঘর্টনায় ৯ লঞ্চ স্টাফের কারাদণ্ড, মালিককে জরিমানা

ভোলার লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীতে ঈদে ঘরমুখো  যাত্রী বোঝাই লঞ্চ এমভি কোকো-৪ ডুবে ৮৩ জনের মৃত্যুর ঘটনার মামলায় ৯ জনের চার বছর করে কারাদন্ড ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৯ মাসের দন্ডাদেশ দিয়েছে মেরিন কোর্ট। এছাড়া রায়ে কোকো-৪ লঞ্চের স্বত্বাধিকারী মেসার্স রহমান শিপিং বাংলাদেশ লিমিটেডকে চার লাখ ৮৬ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণমূলক জরিমানা করা হয়েছে। এ টাকা আদায়ের পর ওই দুঘর্টনায় নিহতের পরিবারদের দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
মঙ্গলবার ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত নৌ-আদালতের (মেরিন কোর্ট) স্পেশাল মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাম্মী হাসিনা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
 
দন্ডপ্রাপ্তরা  হলেন- লঞ্চের দ্বিতীয় শ্রেনীর  মাস্টার শামসুল হক, তৃতীয় শ্রেনীর মাস্টার শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, দ্বিতীয় শ্রেনীর চালক মাকসুদ আহম্মেদ, সজল আরেফিন ইসলাম খান, হেলপার (সুকানি) আবুল কালাম, আব্দুল আজিজ, কেরানি টিটু, শামীম ও পরিদর্শক উজ্জ্বল।
 
রায় ঘোষণার সময় জামিনে থাকা আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত রায় ঘোষণার পর তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
 
২০০৯ সালের ২৯ নভেম্বর রাতে ওই লঞ্চ ডুবির ঘটনার পর ২ ডিসেম্বর মামলা করেন সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের পরিদর্শক শফিক আইয়ুব। পরে ঘটনাটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে অধিদপ্তদের মুখ্য পরিচালক শফিকুর রহমান ৯ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক মামলা করেন। দীর্ঘ আট বছর বিচার প্রক্রিয়ার পর মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন বিজ্ঞ আদালত।
 
ঈদের আগের দিন ঢাকা থেকে ভোলার লালমোহনগামী এমভি কোকো-৪ নাজিরপুর ঘাটে ভেরার সময় নিমজ্জিত হয়। ঐ দুঘর্টনার পর  দৈনিক ইত্তেফাকে প্রধান শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ ছিল ‘স্টাফদের তাণ্ডবে ডুবছে কোকো’।