নাসিম আলী, পিরোজপুর অফিস ও শেখ মোহাম্মদ আলী, শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
সুন্দরবনে তিন মাসব্যাপী মধু আহরণ মৌসুম শুরু হয়েছে। ১ এপ্রিল শুরু হওয়া এ মৌসুম চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। ইতোমধ্যে বনসংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামের মৌয়ালরা দলবেঁধে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে নেমেছে। বাঘ আর বনদস্যুদের ভয় মাথায় নিয়েই প্রতিবছর এ মৌসুমে সুন্দরবনে মধুর সন্ধান করে তারা।
শরণখোলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌয়ালরা বনবিভাগের পাস নিয়ে বনে ছুটছে। আগের তুলনায় সুন্দরবনে মধুর পরিমাণ কমে যাওয়ায় অনেক মৌয়াল মধু ভাঙার প্রস্তুতি নিয়ে যাবার অপেক্ষায় রয়েছে। বন সংলগ্ন শরণখোলা গ্রামের মধু আহরণকারী বাদল হাওলাদার, ইউসুফ মাতুব্বর, আসাদুল কবিরাজ, রতন মোল্লা এবং খুঁড়িয়াখালী গ্রামের শাহজাহান আকন, এমাদুল তালুকদার জানান, বনে এখন আর আগের মতো মধু পাওয়া যায় না। এখন গরান ও খলসী ফুলের মৌসুম এবং শেষের দিকে আসবে কেঁওড়া ফুল। কিন্তু বনে গরান ও খলসী এই দুই জাতের গাছের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। যার ফলে মধুও কমে হচ্ছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ১ এপ্রিল প্রথম দিনে তিন শতাধিক মৌয়াল পাস নিয়ে বনে প্রবেশ করেছেন। এ বছর মধু খাত থেকে গত বছরের চেয়ে প্রায় দেড়গুণ রাজস্ব আয় হবে। প্রতি কুইন্টাল মধু থেকে ৭৫০ টাকা এবং প্রতি কুইন্টাল মোম থেকে এক হাজার টাকা রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। মৌসুমের প্রথম দিনে শরণখোলা ও বগী স্টেশন থেকে ৩০টি নৌকার পাস দেওয়া হয়েছে। তিন শতাধিক মৌয়াল দুই সপ্তাহের পাস নিয়ে বনে প্রবেশ করেছে। বনবিভাগের তত্ত্বাবধানে তাদের বনের কোকিলমনি এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে বনের ২৪ নম্বর কম্পপার্টমেন্টের মরাভোলা, তেঁতুলবাড়িয়া, দাসের ভারানি এবং অভয়ারণ্য এলাকার বাইরে গিয়ে তারা মধু আহরণ করবে।
তিনি বলেন, গত বছর শরণখোলা রেঞ্জে চার লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। এবছর ছয় লাখ টাকা রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।