এক স্কুলে দুই প্রধান শিক্ষক!

 
একটি স্কুলে একজন প্রতিষ্ঠান প্রধান ‘প্রধান শিক্ষক’ বা ‘অধ্যক্ষ’ থাকবেন এটাই নিয়ম। কিন্তু রাজধানীর মিরপুর বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় ভার সইছে দুই প্রতিষ্ঠান প্রধানের। দুজনের মধ্যে একজন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি দেখিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠান প্রধান দাবি করছেন, অন্যজন স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতে প্রাক্তন প্রতিষ্ঠান প্রধান তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন এমন চিঠি দেখিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠান প্রধান দাবি করছেন। এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ক্যাম্পাসটিতে।
 
দুই প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রভাবের কারণে শিক্ষকরাও এখন দ্বিধাবিভক্ত। নিজের পক্ষের শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসাবে বৈধ দায়িত্ব দেওয়ার জন্য তারা এখন ব্যস্ত। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে ঘুরছেন নিজ নিজ পক্ষের শিক্ষকরা।
 
দ্বিধাবিভক্ত শিক্ষকরা ঠিকমতো পাঠদানে মনযোগী নন। প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি না থাকায় অভিভাবকহীন এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কার্যত স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষকের কোন্দলের কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। আর এ কারণে শিক্ষার্থী সংখ্যাও ক্রমশ কমছে।
 
তথ্য অনুযায়ী, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ বদরউদ্দিন হাওলাদারের (সম্প্রতি অবসরে যাওয়া) স্বাক্ষরে আর্থিক লেনদেন ও তাকে শিক্ষক কর্মচারিদের বেতন-ভাতার বিলে স্বাক্ষর না করার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ কারণে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদানে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় চলতি বছর ৫ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানের সহকারি প্রধান শিক্ষক আবুল কালামকে সাময়িকভাবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এবং বেতন-ভাতা বিলে স্বাক্ষরের ক্ষমতা দেয়। এরপরই মন্ত্রণালয়ের এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট মামলা দায়ের করেন তত্কালীন অধ্যক্ষ বদর উদ্দিন হাওলাদার। এই অধ্যক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের এই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেয় আদালত।
 
আবুল কালাম বলেন, ৪ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিতাদেশ ছিল। কিন্তু এখন নেই। তাই মন্ত্রণালয়ের আদেশ আবার কার্যকর হবে। সে অনুযায়ী আমি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হিসাবে বলবত্ আছি।
 
তবে যে চিঠির জোরে আবুল আলাম প্রতিষ্ঠান প্রধান হবার দাবি করেছেন তার বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মোদাচ্ছের হোসেন নামে এক শিক্ষকদের বক্তব্য, আদালতের রায়ের তথ্য গোপন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাকে প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব দিয়েছেন। এ কারণে এর বৈধতা নেই। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র তিনি ঢাকা শিক্ষাবোর্ড এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে জমা দিয়েছেন বলেও জানান।
 
অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক দাবিদার এ বি এম আবদুছ ছালাম। তার সমর্থিত শিক্ষকদের বক্তব্য, সম্প্রতি অবসরে যাওয়া অধ্যক্ষ বদর উদ্দিন হাওলাদার স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে এ বি এম আবদুছ ছালাম প্রতিষ্ঠান প্রধান (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) হিসাবে দায়িত্ব দিয়েছেন।
 
শিক্ষকদের বক্তব্য, প্রাক্তন অধ্যক্ষ বদরউদ্দিন নানা অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা ক্ষতি করেছেন। নতুন করে দুর্নীতিবাজ কাউকে প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হবে না। এ বি এম আবদুছ ছালামই বৈধ প্রতিষ্ঠান প্রধান। অপর এক শিক্ষক বাছির উদ্দিন বলেন, আবুল কালাম নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। তিনিই বৈধ প্রতিষ্ঠান প্রধান।
 
ইত্তেফাক/কেকে