অসত্ পথে উপার্জিত সম্পদ কখনোই সুখ বয়ে আনে না

দুদক বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

দুর্নীতি দমন কমিশনের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মো. জুলফিকার আলী বলেছেন,  অসত্ পথে উপার্জিত অর্থ বা সম্পদে কখনোই প্রকৃত সুখ বয়ে আনে না। শুধু সুখই নয়, রাতে শান্তির ঘুমও হয় না। অসত্ পথের উপার্জনে সাময়িক দম্ভ থাকলেও এক সময় দেখবে তারা তোমাদের চেয়েও অসহায়। তাই জীবন চলার পথে সর্বদা সত্ পথে উপার্জনে যে প্রকৃত সুখ-শান্তি পাওয়া যায় এবং নিশ্চিন্তে শান্তির ঘুম ঘুমানো যায় সেজন্য সকলের সেভাবেই কম হলেও সত্ভাবে উপার্জন করা উচিত।

মঙ্গলবার বিকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের উদ্যোগে ভাণ্ডারিয়া মজিদা বেগম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পৃথকভাবে স্থানীয় বিহারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে ওই দুই বিদ্যালয়ের সততা স্টোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, মানুষের জীবন গঠনের শুরু হয় শিক্ষাজীবন থেকে। সেখান থেকে যদি সত্ পথে চলা এবং উপার্জনের শিক্ষা দেওয়া যায়, তাহলে আজকের বাংলাদেশের চেয়ে আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ।

তিনি বলেন, সততা স্টোরে কোনো বিক্রেতা থাকবে না, শুধু যে সকল জিনিসপত্র থাকবে তার গায়ে মূল্য লেখা এবং একটি বাক্স থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রত্যেকে তার জিনিস কিনে সঠিক মূল্যটা বাক্সে ফেলে রাখবে। এর অর্থ হলো শিক্ষাজীবন থেকেই তোমাদের সত্ পথে চলার যে মানসিকতা এবং নৈতিকতা তৈরি হবে তা ভবিষ্যতে সুখে-শান্তিতে যেমন নিজের এবং নিজের পরিবারের জন্য তো বটেই দেশের জন্যও সুফল বয়ে আনবে।

পৃথক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল আলম। আরো বক্তব্য রাখেন, মজিদা বেগম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অন্যতম সদস্য সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও পৌর কাউন্সিলর মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি শংকর দাস, শিক্ষক মো. মনির হোসেন হাওলাদার এবং মো. শফিকুল ইসলাম আযাদ। পৃথক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উভয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফারুকুজ্জামান মন্টু ও মো. মনিরুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিলন প্রমুখ।

এ সময় মজিদা বেগম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪৪৫জন শিক্ষার্থীর মাঝে খাতা এবং বিহারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮৩৪টি খাতা ও ৪০টি জ্যামিতি বক্স বিতরণ করা হয়।