‘বিনা বিচারে বন্দিদের পুনর্বাসনে এনজিওগুলোর ভূমিকা রয়েছে’

সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম বলেছেন, বিনা বিচারে যারা দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকেন মুক্তি পাওয়ার পর তাদের সামাজিকভাবে পুনর্বাসনে এনজিওগুলোর ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, এনজিওগুলোর সঙ্গে লিগ্যাল এইড কমিটির অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে আইন সহায়তা কার্যক্রমকে সামগ্রিকভাবে আরো এগিয়ে নেয়া সম্ভব। আর এটা করা গেলেই অস্বচ্ছল ও দুস্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আরো কার্যকরভাবে আইনি সহায়তা সেবা দেওয়া যাবে। জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে ‘সুপ্রিম কোর্টে আইন সহায়তা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম এসব কথা বলেন। 
 
সুপ্রিম কোর্টের কনফারেন্স লাউঞ্জে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি এই সভার আয়োজন করে। 
 
বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, সুপ্রিম কোর্টের কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। প্রতিদিনই লিগ্যাল এইড অফিসে ২০/২৫ জন অস্বচ্ছল ও দুস্থ বিচারপ্রার্থীরা ভিড় করেন। আমরা তাদের বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। তিনি বলেন, আমাদের চিঠির প্রেক্ষিতে কারাকর্তৃপক্ষ ৪৬২ জন বিনা বিচারে কারাগারে আটক বন্দির তথ্য পাঠায়। সেখান থেকে যাচাই করে ৫৮ জনকে পাওয়া যায় যারা দশ বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আটক রয়েছেন। তাদেরকে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। 
 
তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তদের অনেকেই অনেক সময় যথাযথভাবে জেল আপিল দাখিল করেন না। ফলে ওই ত্রটিপূর্ণ জেল আপিল নিষ্পত্তি না হয়ে পড়ে থাকে। এছাড়া বিশেষ আইনের মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিল দাখিল করতে হয়। অনেকেই এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিল না করায় তা খারিজ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে এনজিওগুলোর যেসব প্যারা লিগ্যাল টিম রয়েছে তাদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। 
 
বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, আমাদের নিজস্ব জনবল নেই। দুটি এনজিওর সহায়তায় এই কমিটি তাদের অফিস পরিচালনা করছে। আমাদের কাজের পরিধি জনগণকে জানানোর জন্য এনজিওগুলো ভূমিকা রাখতে পারেন। কেননা এনজিওগুলো তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে থাকেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম নিয়ে মানুষের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে। সেই স্থানটিকে আমরা ধরে রাখতে চাই।   
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বলেন, অস্বচ্ছল ও দুস্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইন সহায়তা সেবা প্রদান সরকার বা এনজিওগুলো কারো একার পক্ষে সম্ভব নয়।  এজন্য একটি কমন প্লাটফর্ম দরকার যার মাধ্যমে এই আইন সহায়তা কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হয়। 
 
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, কোন ভুলের কারণেই একজন বন্দিকে বিনা বিচারের ১৫ বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। এই ভুলের মাশুল কে দেবে? নিশ্চয়ই এক্ষেত্রে এনজিওগুলোর ভূমিকা রয়েছে এ ধরনের ব্যক্তিকে পুনর্বাসন করতে। এজন্য একটি ফান্ড গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, এনজিওগুলোর ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সরকার মূখ্য ভূমিকা পালন না করলে সেটি কখনো টেকসই হবে না। 
 
জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যাদের পক্ষে আইনি সহায়তা দেওয়ার কেউ নেই তাদের মানবাধিকার রক্ষার জন্যই কাজ করে লিগ্যাল এই অফিস। 
 
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শিফা হাফিজ, ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রধান নির্বাহী শারমীন মুরশিদ, এলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ব্র্যাকের মানবাধিকার ও আইন সহায়তা ইউনিটের প্রধান সাজেদা ফারিসা কবীর, জিআইজেড এর হেড অফ প্রোগ্রাম প্রমিতা সেনগুপ্ত প্রমুখ বক্তব্য দেন।