লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার নির্বাচনের দেড় বছর পার হলেও এখনও পৌরবাসী আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, নগরবাসী যে প্রত্যাশা করেছিল তা মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার এ দেড় বছরে পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি এ পর্যন্ত পৌরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত কোনো সেবা দিতে পারেনি। ঘটেনি মানুষের আস্থার প্রতিফলন। শুধু নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে পানির বিলসহ বিভিন্ন কর। আবার কেউ কেউ বলেছেন, এক ও দেড় বছরেই পৌরসভার কাজের পুরোপুরি মূল্যায়ন করার যথার্থ সময় হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরে রায়পুর পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খোকন। ওই নির্বাচনের আগে গ্যাস, পানির লাইন নির্মাণ, ঘরে ঘরে বিদ্যুত্, সড়ক সংস্কার, নতুন সড়ক, আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দায়িত্বের পর কর বাড়লেও কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় পৌরবাসীর মাঝে দিন-দিন হতাশা বাড়ছে। পৌরসভার কোনো সড়ক দিয়ে এখন পায়ে হাঁটাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় পৌরবাসীরা জানান, পৌর শহরের বেশিরভাগ ড্রেন ও খাল দখল হয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায় পৌর এলাকা। রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা, নেই নৈশবাতি। ডাস্টবিন না থাকায় খোলা জায়গায় যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনাসহ পৌর বর্জ্য। শিশুপার্ক বা জনগণের বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ব্যবহারযোগ্য কোনো শৌচাগারও নেই বেশিরভাগ স্থানে। বেশিরভাগ স্থানে নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা। চলাচলের জন্য ফুটপাথ নেই, যেটুকু আছে তাও দখল করে নিয়েছে হকাররা। নামেই প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হলেও বাস্তবে পৌরসভায় নেই উন্নয়নের ছোঁয়া।
যোগাযোগ করা হলে পৌর মেয়র ইসমাইল খোকন বলেন, ‘শুরুতেই দুই কোটি ৭৭ লাখ টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করি। ঋণ পরিশোধ করে এক ও দেড় বছর পৌরসভার কাজের মূল্যায়নের জন্য অনেক অল্প সময়। কোনো প্রতিষ্ঠান গুছিয়ে উঠতেই এক থেকে দেড় বছর সময় লেগে যায়। পূর্বের মেয়রের রেখে যাওয়া ঋণ পরিশোধ করতেই এক বছর লেগে গেছে। তবে এটা সঠিক যে জনসাধারণের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। তবে চলতি বছর থেকে সকল উন্নয়নমূলক কাজই শুরু হবে।’
ইত্তেফাক/নূহু