এফডিসি এখন সরব ‘চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি’ নির্বাচন নিয়ে। যেখানে একটি প্যানেলের হয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করছেন অমিত হাসান। তাই তার এখনকার ব্যস্ততা চলচ্চিত্র নির্বাচন নিয়েই। পাশাপাশি চলচ্চিত্রের শুটিংও করছেন তিনি। নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নেতিবাচক প্রসঙ্গও উঠে আসছে। সেই প্রসঙ্গগুলোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত ব্যস্ততা নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে—
সমিতির নির্বাচনে অনেককেই দেখা যায় অতিথি পাখির মতো। অনেকে আবার নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ গ্রহণ, সমিতির মিটিং কোনোকিছুতেই আসে না। তারা সমিতির কক্ষটাও ঠিকমতো চেনে না। আমি মনে করি কাজ করার মন মানসিকতা না থাকলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ারই দরকার নেই। আমাদের প্যানেলই গঠন করা হয়েছে যারা কাজ করেন তাদের নিয়ে।
‘চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি’ নির্বাচন নিয়ে মুখর চলচ্চিত্র অঙ্গন। অনেক আলোচনা-সমালোচনা, অভিযোগ শোনা যাচ্ছে নির্বাচন নিয়ে। এ প্রসঙ্গে একটু জানতে চাই—
নির্বাচন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু এবারের ঘটনাগুলো খুব দৃষ্টিকটু। আমি এর আগেও অনেক সিনিয়র শিল্পীদের বিপক্ষে প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছি, জিতেছি। দিনশেষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বন্ধুর মতো মিশেছি। কিন্তু এবার নির্বাচনকে ঘিরে একটা বিষয় লক্ষ্য করছি বিপক্ষ প্যানেলের প্রার্থী যেন শত্রু। সিনিয়র শিল্পীদের সাথে জুনিয়রদের শ্রদ্ধাবোধের বিষয়গুলো উঠে যাচ্ছে। কিন্তু একটা নির্বাচনকে ঘিরে এ বিষয়গুলো খুব নেতিবাচক। আমাদের শিল্পীদের ভুলে গেলে চলবে না দিনশেষে আমরা একটা পরিবার। নির্বাচনের জন্য আমাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক যেন নষ্ট না হয়।
আপনার ব্যক্তিগত পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বলুন—
আমি গতবারও নির্বাচিত হয়েছি। তাই অনেক বিষয় নিয়েই কাজ করতে চাই। দু-বছরে তো আর সবকিছু করা সম্ভব হয়নি। আমি চাইবো শিল্পী সমিতির ফান্ডে যেন ৬-৭ কোটি টাকা সবসময় জমা থাকে। এ বিষয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসবো। তার কাছে অনুরোধ করবো যেন প্রতি বছর শিল্পী সমিতির ফান্ডে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা হয়।
IMG0
সর্বশেষ কমিটিতে আপনি সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। বর্তমান কাজের অভিজ্ঞতা যদি একটু বলতেন—
আমি যখন দায়িত্ব নিলাম তখন শিল্পী সমিতির ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা ঋণ ছিল। নির্বাচিত হওয়ার পরই আমরা ক্যাবিনেটের সদস্যরা মিলে ১ লাখ ১০ হাজার টাকার একটি ফান্ড তৈরি করি। গত দু-বছরে আমরা অনেক কাজ করেছি। এত কাজ করার পরও ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার সময় শিল্পী সমিতির ফান্ডে আমরা প্রায় ৫-৭ লাখ টাকা জমা রেখেছি। ১৯৮৪ সালের ১১ মে মাসে শিল্পী সমিতি গঠিত হয়। তখন থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ক্যাবিনেট ক্ষমতা ছাড়ার সময় এত টাকা রেখে যায়নি। গত দু-বছরে দুটি পিকনিক করেছি, পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি, ইফতার পার্টির আয়োজন করেছি। অনেক শিল্পী আছেন যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল, তাদের কিছুটা হলেও সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। দু-বছরের কাজে সাধারণ শিল্পীরা যদি সন্তুষ্ট থাকেন তাহলে অবশ্যই আমাকে ভোট দেবেন।
নির্বাচন শেষে নির্বাচিত প্রার্থীদের অনেককেই কাজ করতে দেখা যায়নি। এসব বিষয়ে আপনার প্যানেলের
ভাবনা কী?
সমিতির নির্বাচনে অনেককেই দেখা যায় অতিথি পাখির মতো। অনেকে আবার নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ গ্রহণ, সমিতির মিটিং কোনোকিছুতেই আসে না। তারা সমিতির কক্ষটাও ঠিকমতো চেনে না। আমি মনে করি কাজ করার মন মানসিকতা না থাকলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ারই দরকার নেই। আমাদের প্যানেলই গঠন করা হয়েছে যারা কাজ করেন তাদের নিয়ে। যারা কাজ করবেন বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তাদের নিয়েই আমরা আমাদের শিল্পী পরিবারের জন্য কাজ করবো।
যৌথ প্রযোজনার অনিয়ম নিয়েও এর আগে শিল্পী সমিতির পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু এর সুষ্ঠু কোনো ফল পাওয়া যায়নি। আপনারা জয়ী হলে এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেবেন?
যৌথ প্রযোজনা চলচ্চিত্রের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নীতির বিষয়। যেটা অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। এখন যে চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে সেগুলো কিন্তু নিয়ম মেনেই হচ্ছে। যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রে অনিয়ম হলে, আমাদের শিল্পীদের অবহেলা করা হলে আমরা সেটা মেনে নেব না। আমরা এ বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই সোচ্চার। যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র আমরা আরো নিয়ম-নীতির মধ্যে নিয়ে আসবো।
ইত্তেফাক/আনিসুর