নরসিংদী জেলার দাসপাড়া গ্রামের মেয়ে বৃষ্টি। চরম অভাবের সংসারে পড়াশোনা করেছেন ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত। এরপর মা তাকে বিয়ে দেন। সেখানেও অভাব। তখন ভাড়ায় একটি সেলাই মেশিন নিয়ে অন্যের কাপড় সেলাই করে উপার্জন শুরু করেন। বর্তমানে তার তিনটি কারখানায় ১০০ নারী শ্রমিক কাজ করেন। তার ব্যবসার পুঁজি ১ কোটি টাকা ও জায়গা আছে আরো প্রায় ১ কোটি টাকার। তার ইচ্ছা অন্তত ১ হাজার নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। ব্যবসায়ের পাশাপাশি তিনি সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজও করেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এমন জীবন সংগ্রামী কিছু নারীকে খুঁজে বের করে সম্মাননা জানিয়েছে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়। শ্রেষ্ঠ ক্যাটাগরিতে পাঁচ ও রানারআপ ক্যাটাগরিতে আরো পাঁচ মোট ১০ জন নারীকে ক্রেস্ট, উত্তরীয়, সার্টিফিকেট ও চেক প্রদান করে সম্মাননা জানানো হয়। গতকাল শনিবার সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে এই নারীদের সংগ্রামের ওপর ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর নম্বরের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ ও রানার আপ নারীদের বাছাই করেন বিচারকমণ্ডলী। পাঁচ ক্যাটাগরির শ্রেষ্ঠ হয়েছেন— অর্থনৈতিকভাবে সফল ক্যাটাগরিতে বৃষ্টি, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যামে জীবন শুরু ক্যাটাগরিতে ফিরোজা খাতুন, সফল জননী ক্যাটাগরিতে মোছা. রওশন আরা বেগম, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সফল্য অর্জনকারী ক্যাটাগরিতে আমিনা ফাহমিদা খানম। সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য সফল ক্যাটাগরিতে কোহিনুর আক্তার জুঁই।
রানার আপ হয়েছেন— অর্থনৈতিকভাবে সফল নাহিদ আক্তার, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু ক্যাটাগরিতে মীরা বেগম, সফল জননী মিসেস হালিমা খাতুন, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সফল্য অর্জনকারী ক্যাটাগরিতে মনিকা রানী মজুমদার, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য সালমা আক্তার।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে বাছাইকৃত ৬৫ জন নারীর মধ্য থেকে ১০ জনকে তুলে আনার কাজটি করছে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়।
ইত্তেফাক/নূহু