মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ঘূর্ণিঝড়ে ৩ ইউনিয়নে দুই শতাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। আরও দেড় শতাধিক কাঁচা ঘর আংশিক বিধ্বস্ত। গাছ ভেঙে পড়ায় আতঙ্কে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যার ঝড়ের এ ঘটনা ঘটছে।
উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের চাম্পারায় চা বাগান, কুরমা চা বাগান, কোনাগাঁও, শ্রীপুর, নয়াবাজার, আদমপুর ইউনিয়নের তেঁতইগাঁও, মধ্যভাগ, নঈনারপার, হেরেঙ্গাবাজার ও মাধবপুর ইউনিয়নের মাধবপুর বাজার এলাকা, পাত্রখোলা চা বাগান ও ধলই চা বাগান এলাকায় দুই শতাধিক কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। অনেক ঘরের চাল উড়ে গাছের উঁচু ডালে গিয়ে আটকে রয়েছে। বড় গাছ ভেঙে পড়তে দেখে আতঙ্কে ইসলামপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের আছকন মিয়ার স্ত্রী সাহেরা বিবি (৫০) মারা গেছেন। মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগানের পশ্চিম লাইন শ্রমিক বস্তির শুকুয়া রিকিয়াশনের ঘরের দেয়াল চাপায় তার একটি গরু মারা গেছে। তিনটি ইউনিয়নে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, আদমপুর ইউনিয়ন সদরে তেঁতইগাঁও গ্রামের প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো তেঁতুলগাছসহ হেরেঙ্গা বাজার এলাকার বেশ কয়েকটি শতবর্ষী গাছ, মধ্যভাগ গ্রামের মখদ্দছ শাহের মাজারের বড় বটগাছ, ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি বড়গাছ উপড়ে পড়েছে। ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা ও চাম্পারায় চা বাগান, মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা ও ধলই চা বাগানের প্লান্টেশন এলাকার গাছ গাছালি ভেঙে পড়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ইসলামপুর, আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ। আদমপুর ইউনিয়নের নঈনারপার গ্রামে ১০টি ও মাধবপুর বাজার সংলগ্ন এলাকার ৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি কমলগঞ্জ জোনাল ব্যবস্থাপক মোবারক হোসেন ঘূর্ণিঝড়ে দুটি ইউনিয়নে ১৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় গাছ পড়ে বৈদ্যুতিক তার ছেঁড়াসহ ব্যাপক ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করেন।
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় শুক্রবার রাতে ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে ইরি-বোরো ধানক্ষেত, ঘরবাড়ি, গাছপালা, ভুট্টা, কলাবাগান, পাটসহ বিভিন্ন ফসল ও শাক-সবিজর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ইরি-বোরো ধানক্ষেতসহ ঘরবাড়ি, গাছপালা, ভুট্টা, কলাবাগান, পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে শাক-সবিজর। বেশকিছু ইরি-বোরো ক্ষেত বাতাসে হেলে পড়ে পানিতে ডুবে গেছে। কোথাও শিলাবৃষ্টির কারণে পাকা ধান ঝরে পড়েছে ব্যাপক। এ অবস্থায় কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দিতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন বলে উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবুর রশিদ জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/নূহু