উখিয়া উপজেলা প্রশাসন জনস্বার্থে কয়েকটি বালু মহাল ইজারা স্থগিত রাখলেও অর্ধশতাধিক স্পট থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী চক্র বালু লুটপাট বাণিজ্যের মাধ্যমে মৌসুমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও সরকার রাজস্ব পাচ্ছে না।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে বালু ভর্তি ট্রাক আটক করলেও তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা না করায় লুটকারী সিন্ডিকেট পার পেয়ে যাচ্ছে।
বালু মহাল ইজারাদার শাহজাহান জানান, ১৪১৬ বাংলা সাল থেকে ১৪২২ পর্যন্ত প্রায় ছয় বছর চরপাড়া এলাকার ইজারা নিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা সরকার রাজস্ব আদায় করেছে। অথচ হঠাত্ ওই এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়ায় সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হলেও উত্তোলন থামছে না। তিনি অভিযোগ করেন, জালিয়াপালং মৌজার জুম্মাপাড়া ব্রিজ, লম্বরীপাড়া কবরস্থান সংলগ্ন এলাকা, ইনানী ছোট খাল, ইনানী বড় খাল, মনখালী খাল, ছেপটখালীসহ ১২টি খাল থেকে সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে লুটপাট করে বালু উত্তোলন ও পাচার অব্যাহত রয়েছে। সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে উত্তোলনের ফলে খাল সংলগ্ন গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অপরদিকে পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী খালের প্রায় ৩০টি পয়েন্ট থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে। স্থানীয় গ্রামবাসীর অভিযোগ, ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে ফসলি জমি, বসতভিটা, পানের বরজসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসল খালের ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে কোনো কাজ হয়নি।
তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করলেও বৈধ না অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
ইত্তেফাক/নূহু