চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক। সম্প্রতি তিনি কথা বলেছেন তার নতুন চলচ্চিত্র এবং চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে। এই আলোচনায় উঠে এসেছে পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টিও। এছাড়া চলচ্চিত্রের নানা বিষয়ে বিনোদন প্রতিদিনের সাথে কথা বললেন তিনি—
‘চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি’ নির্বাচন নিয়ে মুখর চলচ্চিত্র অঙ্গন। অনেক আলোচনা-সমালোচনা, অভিযোগ শোনা যাচ্ছে নির্বাচন নিয়ে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাই—
নির্বাচন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। একপক্ষ আরেকপক্ষকে দোষারোপ করবে এটাই স্বাভাবিক। এবারের ঘটনাগুলো নিয়ে একটু বেশিই আলোচনা হচ্ছে। অভিযোগ উঠছে প্রার্থীদের নিয়েও। নির্বাচনের সবকিছু এখন নির্ভর করছে ভোটারদের ওপর। তাদেরই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাচাই-বাচাই করতে হবে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের জন্য। একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে নির্বাচনের জন্য আমাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক যেন নষ্ট না হয়।
নির্বাচন নিয়ে ব্যক্তিগত পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বলুন—
আমি প্রথমবারের মতো নির্বাচন করছি। ব্যক্তিগতভাবে কাজ করার চেয়ে দলগতভাবে কাজ করার ইচ্ছেটা বেশি। নিজের কিছু পরিকল্পনা তো অবশ্যই আছে। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছি, তাদের সমস্যাগুলো এবং আমাদের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো জানার চেষ্টা করেছি। সেগুলো নিয়েই কাজ করবো আমাদের চলচ্চিত্রের জন্যে।
প্রথমবারের মতো নির্বাচনে প্রার্থী হলেন, তা-ও আবার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির মতো বড় একটা জায়গায়। কোনো চাপ অনুভব করছেন কি-না?
প্রথম সবকিছুর অনুভূতি অন্যরকম হয়। আমার প্রথম অভিনয়ের দিনটা যেমন স্মরণীয় তেমনি নির্বাচনটাও। একটু নার্ভাসনেস তো আছেই, কিন্তু যারা সিনিয়র আছেন তারা বেশ সাহায্য করছেন। আমার যখন মনে হয়েছে চলচ্চিত্রের প্রতি, ইন্ডাস্ট্রির প্রতি আমার একটা দায়িত্ববোধ আছে তখন সিদ্ধান্ত নিলাম নির্বাচনে অংশ নেবো। চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য কাজ করবো, আমাদের শিল্পীদের জন্য কাজ করবো।
যৌথ প্রযোজনার অনিয়ম নিয়ে এর আগে শিল্পী সমিতির পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু এর সুষ্ঠু কোনো ফল পাওয়া যায়নি। আপনারা জয়ী হলে এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেবেন?
নীতিগতভাবে আমরা এক। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সবকিছু উল্লেখ করা আছে। আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করবো। আর পদক্ষেপ অবশ্যই নেওয়া হবে, এ বিষয়ে কোনো সংশয় নেই।
আপনার বর্তমান ব্যস্ততা কেমন চলছে?
এখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। নিজের ব্যক্তিগত কাজ, শুটিং ফেলে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত।
আর চলচ্চিত্রে?
আগামী মাসে মুক্তি পাবে সজল আহমেদের ‘তুই আমার’। সম্প্রতি ডাবিং শেষ করলাম জেসমিন আক্তার নদী পরিচালিত শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘জল শ্যাওলা’ ও সারোয়ার হোসেনের ‘খাস জমিন’ ছবির। এগুলো শিগগিরই মুক্তি পাবে। পাশাপাশি শামীমুল ইসলাম শামীমের ‘গোলাপতলীর কাজল’ ও মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘জান্নাত’ ছবির কাজ করছি। সম্প্রতি কাজ শুরু করবো ‘গোপন সংকেত’, তাজু কামরুলের ‘দরবার’ ও সায়মন তারিকের ‘রোড নাম্বার সেভেন’ নামে চলচ্চিত্রের।
আমাদের চলচ্চিত্রের বাজার নিয়ে কী বলবেন?
আমাদের চলচ্চিত্রে শিল্পীদের পারিশ্রমিক বেশি না হওয়ার কারণে অনেক কাজ করতে হয়। অভিনয় করাটাই আমাদের মূল পেশা, তাই একাধিক ছবিতে কাজ করতে হয়। বর্তমানে বাজার নাজুক হলেও আমার বিশ্বাস চলচ্চিত্রের খারাপ অবস্থা খুব দ্রুতই কাটিয়ে উঠবো আমরা। আর দর্শককে ভালো ছবি উপহার দেওয়ার ব্যাপারে শিল্পীদেরও সচেতন থাকতে হবে। দর্শকরা যেন হলমুখি হয় তেমন ছবিতেই অভিনয় করতে হবে আমাদের।
ইত্তেফাক/আনিসুর