মশা আর ধুলো

ঢাকায় দুটি সমস্যা যেন প্রতিযোগিতা করে নগরবাসীকে বিরক্ত করছে নিত্যদিন। এক. মশা, দুই. ধুলো। মশার যন্ত্রণা অসহনীয়। মশার স্প্রে দেওয়া হচ্ছে নিয়মিতই সিটি করপোরেশন থেকে, কিন্তু মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না মোটেও। এখন মশার আকৃতি আরো ছোট, নজরে আসছে না। কিন্তু মশা তো কামড়াচ্ছেই। উত্তর সিটি করপোরেশনের একজন স্প্রেম্যানের বক্তব্য ছিল এমন—তাদেরকে সিটি করপোরেশন থেকে বলা হয় ড্রেনে মশার ডিম দেখে স্প্রে করার জন্য। বর্তমানে তারা আসলে মশার ডিম দেখতে পাচ্ছে না। স্প্রেম্যানেরাও নজরদারিতে থাকে—সিটি করপোরেশনের অন্য টিম ছাঁকনি দিয়ে ড্রেনের পানি পরীক্ষা করে ডিম আছে কি না। যে অঞ্চলের স্প্রেম্যানের এলাকায় ডিম পাওয়া যাবে সে স্প্রেম্যানকে শাস্তি পেতে হবে। সিটি করপোরেশন মশা তাড়াতে চেষ্টার কার্পণ্য করছে না। নগরবাসীরও মশা থেকে পরিত্রাণ নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে মশা থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষায় সিটি করপোরেশনকে অভিনব পদ্ধতির চিন্তা ও বাস্তবায়নে মনোযোগী হতে হবে। পুরনো পদ্ধতিতে বুদ্ধিমান মশাকে সম্ভবত কাবু করা যাবে না!

নগরবাসীকে রাস্তায় যে ভয়াবহ মহা যন্ত্রণায় পড়তে হয়, সেটা হচ্ছে ধুলো। যানবাহন চলাচলে এই ধুলো ছড়িয়ে পড়ে। শুধু ধুলো বললে কম বলা হয়। মরুভূমির ধুলোঝড় বলা যেতে পারে! অন্ধকার হয়ে যায় পুরো এলাকা। এই ধুলোর ভেতর থেকে বেরিয়ে এলে আয়নায় নিজের চেহারা চিনতেও কষ্ট হয়, বিশেষ করে চুলে ধুলোর আস্তর পড়ে। পুরো ঢাকাই ধুলোময়; উদাহরণস্বরূপ উত্তরা হাউজবিল্ডিং থেকে আবদুল্লাপুর পর্যন্ত অংশটার কথা বলা যায়। ঢাকাবাসীকে ধুলো থেকে মুক্তি দিতে দিনে কম করে তিনবার অর্থাত্ সকাল দুপুর ও সন্ধ্যায় সড়কে পানি স্প্রে করা উচিত সিটি করপোরেশনের। ভূগর্ভস্থ পানি অবশ্যই নয়, যা সিটি করপোরেশন পাম্প ব্যবহারে উত্তোলন করে; নগরবাসীর পান ও গৃহস্থালির পানির এমনিতেই সংকট। নদী থেকে পানি আহরণ করে এই সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। আশা করি, সিটি করপোরেশন বিষয়টি ভেবে দেখবে।

মির্জা আবু হেনা কায়সার টিপু, উত্তরা, ঢাকা