রাজশাহীতে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু: হত্যা না আত্মহত্যা ?

 
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সহকারী কমিশনার (এসি) সাব্বির আহমেদ সরফরাজ ওরফে প্রীতমের মৃত্যুর কারণ হত্যাজনিত নয়। গলায় রশির ফাঁসের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
 
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক সূত্রে জানানো হয়েছে, আত্মহত্যার যেসব আলামত থাকে, প্রীতমের ক্ষেত্রে সেগুলো বিদ্যমান ছিল। অন্যদিকে তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা আত্মহত্যার কোনো কারণই খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, প্রীতম আত্মহত্যা করতে পারেন, এমনটা তারা বিশ্বাসও করতে চাইছেন না। ফলে বিষয়টি নিয়ে মৃতের পরিবার ও বন্ধু মহলে ধূম্র-জালের সৃষ্টি হয়েছে।
 
রবিবার বেলা ১২টার দিকে সাব্বির আহমেদ সরফরাজ প্রীতমের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে গঠিত বোর্ডের সদস্য, নগরীর বারিন্দ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মনসুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা তিনজনে (অধ্যাপক ডা. এমদাদুর রহমান ও অধ্যাপক ডা. এনামুল হক) মিলে সকাল ১০টায় এসে ময়নাতদন্ত শুরু করেছি। মৃত্যুর যতগুলো সম্ভব সন্দেহভাজন দিকগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেছি। এসি সাব্বিরের গলায় নাইলনের দড়ির একটি মাত্র দাগ পেয়েছি। এছাড়া তার শরীরে আর কোনো আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়নি। মাদকের বিষয়ে পরীক্ষার জন্য ভিসেরা ও ব্লাড স্যাম্পল সংরক্ষণ করেছি। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসলেই তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।' এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'প্রীতমের মৃত্যু হত্যাজনিত নয়।
 
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরা চাপাচাপি করলে তিনি ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন দেয়ার আগে কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপে তিনি সাব্বির আহমেদ সরফরাজ প্রীতমের মৃত্যুর কারণ 'আত্মহত্যা' বলে মন্তব্য করেন।
 
রবিবার দুপুর সোয়া দুইটার দিকে নগরীর টিকাপাড়া গোরস্থানের নানা-নানির কবরের পাশে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
 
উল্লেখ্য, গত শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর শ্রীরামপুরের কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন আরএমপির পুলিশের অফিসার্স মেসের নীচতলার একটি কক্ষে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় এসি সাব্বির আহমেদ সরফরাজের লাশ পাওয়া যায়। ওই দিন বিকেল ৪টায় ঢাকা থেকে তার পিতা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এম. ওবাইদুল্লাহ আসেন। এরপর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশের অ্যাম্বুলেন্সে করে তার লাশ রামেক মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। 
 
ইত্তেফাক/জামান