সন্ধ্যাটা উৎরে যাওয়ার পর থেকে রাজধানীতে কালবৈশাখীর ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরছে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুত্ চমক- বজ্রপাত। ঘর থেকে বের হওয়া কিংবা ঘরমুখী হওয়া একেবারেই কঠিন হয়ে পড়েছে।
বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েছে অনেক মানুষ। বিশেষ করে কায়িক শ্রমিক এবং কাজ শেষে ঘরমুখো মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
দিনভর বৃষ্টির ছিটেফোঁটা ছিলো না। ছিলো তাঁতানো রোদ্দুর। অস্বস্তিকর গরম। সন্ধ্যার পর আকাশজুড়ে সজল মেঘ আর ঝড়ো হাওয়া অধিকার করে। সোমবার ছুটির দিন হওয়ায় রাস্তাঘাটে মানুষজন ছিল অপেক্ষাকৃত কম।
বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় পানি জমে গেছে। প্রতিটি নিচু অলিগলি পানিতে থৈথৈ করছে। অনেক জায়গায় বৃষ্টির সাথে নর্দমার পানি মিশে একাকার। ফলে অধিকাংশ যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন দেখা দেয় ও পথচারীরা ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হন।
আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রাত সোয়া ১০টায় অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, সন্ধ্যার পর বৃষ্টি শুরু হলেও ৯টার পর থেকে বৃষ্টিপাত বেড়েছে। এখনও মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।
গত তিরিশ বছরের মধ্যে এই সময়টাতে এত বৃষ্টিপাত কখনও হয়নি।
ইতিমধ্যে হাওর অঞ্চলে বন্যায় মানুষের ফসল মাছ নষ্ট হয়েছে। তারা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। রাজশাহীতে কালবৈশাখী ছোবল হেনেছে। গত রবিবার সন্ধ্যায় কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যাদের মধ্যে রাজশাহী নগরের দুইজন, চারঘাটের একজন এবং গোদাগাড়ীর একজন।
এদিকে বর্তমান ঝড়-বৃষ্টির সময়গুলোতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকানো ও অতি উচ্চশব্দে অনেক বেশিসংখ্যক বজ্রপাত হতে দেখা যাচ্ছে, যা অন্য সময় এতটা দেখা যায় না।
এ বিষয়ে কয়েকজন আবহাওয়াবিদ বলেন, আবহাওয়া বিজ্ঞানের ভাষায় এই সময়ের মেঘকে বলা হয় বজ্র মেঘ। অর্থাৎ এই সময়ের মেঘের মধ্যে ইলেকট্রিক চার্জ বেশি তৈরি হয়। এর ফলে মেঘের মধ্যের ধুলাবলি ও পানির অণুকণার পারস্পরিক ঘর্ষণে বেশি পরিমাণ ইলেকট্রিক চার্জ তৈরি হয়। এ অবস্থায় মেঘমালার ভেতরকার ইলেকট্রিক চার্জের মধ্যে পারস্পরিক ঘর্ষণ হয়। এতে প্রচুর তাপও উৎপন্ন হয়। ফলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাতে দেখা যায়। এতে শব্দও হয় অতি উচ্চ। এ ধরনের ঘটনার সময় বাইরে না থাকা নিরাপদ বলে পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।
অধিদপ্তর বলছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের ওপর পশ্চিমা লঘুচাপ গতকালও বিরাজ করছিল, যার বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এ কারণে আজও দেশের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। দেশের চারটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। দেশের অধিকাংশ নৌবন্দরকে ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু