নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা চিহ্নিতকরণে পুলিশের ব্লক রেইড

রাজধানীর পাশের শহর নারায়ণগঞ্জকে জঙ্গিমুক্ত ও জঙ্গিদের আস্তানা হিসেবে যেনো ব্যবহৃত না করতে পারে এইজন্য পুলিশ প্রশাসন মাঠে নেমেছে। মঙ্গলবারও ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় ব্লক রেইড চলেছে। গত সোমবার থেকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ জঙ্গি আস্তানা চিহ্নিতকরণ ও জঙ্গিরা যাতে নারায়ণগঞ্জকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য পুলিশ ব্লক রেইড শুরু করেছে। নারায়ণগঞ্জে জেএমবির প্রধান সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীন, নারী জঙ্গি প্রধান ফাতেমা বেগম ও জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান সাজিদ ওরফে মাসুম র্দীঘদিন অবস্থান করে তাদের বহু অনুসারী গড়ে তুলেছে। মাসুম ভারতে গ্রেফতার হয়েছে ও তার স্ত্রী ফাতেমা র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হলেও সালাউদ্দিনকে জঙ্গিরা পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়ার পর এখনও তার কোন হদিস মিলেনি। 
 
নারায়ণগঞ্জ শিল্প ও বন্দর নগরী হিসেবে বহিরাগতদের অবস্থান বেশি। বিভিন্ন জেলা থেকে নারায়ণগঞ্জে এসে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন পেশায় লোকজন কাজ করছে। এই নারায়ণগঞ্জে জেএমবির মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচিত তামিমসহ তিনজন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সাথে কয়েক ঘণ্টা বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়। তামিম বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করতে নারায়ণগঞ্জে ঘাঁটি গেড়েছিল বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। খুব সহজেই শ্রমিক বেশে নারয়ণগঞ্জে অবস্থানের কারণে জঙ্গিদের প্রথম পছন্দের এলাকা নারায়ণগঞ্জ বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র জানায়। 
 
নারায়ণগঞ্জ থেকে জঙ্গি আস্তানা উৎখাত, জঙ্গিরা যাতে কোন অবস্থাতেই নারায়ণগঞ্জে ঘাঁটি গড়ে তুলতে না পারে এই লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসন ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করাসহ সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারী বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই কাজে পুলিশের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশ সমাজসেবক, বিশিষ্ট ব্যক্তির্বগসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে ১মে থেকে পুলিশ ব্লক রেইড শুরু করেছে। ফতুল্লা থানা থেকে এই ব্লক রেইডের কার্যক্রম শুরু হলেও সমগ্র জেলাব্যাপী চলবে এই ব্লক রেইড। তিন শতাধিক পুলিশসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এই কার্যক্রমে জড়িত রয়েছে। 
 
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মো. ফারুক হোসেন জানান, সোমবার থেকে শুরু হওয়া ব্লক রেইড কবে নাগাদ শেষ হবে আপাতত তা বলা যাচ্ছেনা। সোমবার আফাজনগর এলাকায় ফতুল্লার ব্লক রেইডের উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার মাঈনুল হক। ফারুক হোসেন জানান, প্রতিটি থানাকে ৩০টি ব্লকে ভাগ করে তিনটি টিম একসাথে ব্লক রেইডের কাজ করছে। আমরা প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাড়ির মালিকদের সচেতন করাসহ ভাড়াটিয়াদের সকল তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেজের মাধ্যমে সংগ্রহ করব। শুধু ফতুল্লা নয় নারায়ণগঞ্জের ৭টি থানার প্রতিটিতে আমরা এই র্কাযক্রম শুরু করবো। কোন অবস্থাতেই যাতে নারায়ণগঞ্জে জঙ্গিরা আস্তানা গাড়তে না পারে তার সকল প্রস্তুতি আমরা গ্রহণ করছি। পাশাপাশি জঙ্গিদের অবস্থান থাকলে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সকল গোয়েন্দা সংস্থা নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। 
 
পুলিশ সুপার মাঈনুল হক জানান, নারায়ণগঞ্জকে জঙ্গিমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করাসহ সাধারণ মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে এই অভিযান শুরু করেছি। সাধারণ মানুষ এই ব্যাপারে পুলিশকে সহায়তাও করছে। 
 
ইত্তেফাক/এমআই