যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের ১শ’ দিন পার হলেও নির্বাচন নিয়ে এখনো আলোচনা থামেনি। নির্বাচনে পরাজয় নিয়ে এবারে খোলামেলা কথা বলেছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড সামিটের এক অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রচারাভিযান নিয়ে তিনি একটি বই লিখছেন। সে বইয়ের জন্য হিলারি তার নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ চিহ্নিত করার জন্য ব্যাপক গবেষণা করেছেন।
হিলারি বলেন, তার নির্বাচনী প্রচারাভিযানে চ্যালেঞ্জ, সমস্যা ও ঘাটতি ছিল। নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য তিনি তৎকালীন এফবিআই ডিরেক্টর জেমস কমি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে দায়ী করেন। হিলারি দাবি করেন, তিনি নির্বাচনে জয়ের পথে ছিলেন। কিন্তু অক্টোবরের ২৮ তারিখে তৎকালীন এফবিআই প্রধানের চিঠি এবং রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার কারণে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবরের ২৮ তারিখে তৎকালীন এফবিআই প্রধান মার্কিন কংগ্রেসকে চিঠি দিয়ে জানায় যে হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত ই-মেইলের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরের ২৭ তারিখে নির্বাচন হলে জয়লাভ করা সম্ভব হতো বলে মনে করেন হিলারি ক্লিনটন। হিলারি আরো বলেন, তার নির্বাচনী প্রচারণার শেষ ১০দিনে সব কিছু পাল্টে যায়।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় একটি দলের হয়ে প্রথমবারের মতো একজন নারী প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়াই করেন। সেটিও তার পরাজয়ের জন্য একটি বড় কারণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার নির্বাচনে জয়লাভ করা নারী অধিকারের জন্য বিশ্বজুড়ে একটি বড় ঘটনা হতে পারতো বলে মনে করেন হিলারি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে মিস ক্লিনটন বলেন, কোন এক সকালে শুধু কিছু টুইটারে বার্তা লিখে উত্তর কোরিয়া সমস্যার সমাধান করা যাবে না। হিলারি বলেন, তিনি এখন একজন সক্রিয় নাগরিক হিসেবে তার দায়িত্ব¡ পালন করবেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যেসব ‘ভুল নীতি’ রয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলবেন। এএফপি।
ইত্তেফাক/সাব্বির