বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, বাংলাদেশর পর্যটন শিল্প নিশ্চিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে এ শিল্প বিরাট অবদান রেখে চলেছে। পর্যটন খাতের স্বীকৃতি স্বরুপ সরকার আগামী বছর থেকে পর্যটন এওয়ার্ড প্রদান করতে যাচ্ছে।
বুধবার সকালে রাজধানীর হোটেল অবকাশ এ এটিজেএফবি আয়োজিত প্রি-বাজে ডিসকাসন এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত গত বছর ৯৯ লাখ পর্যটক ডোমেস্টিক ট্যুরিজমের উল্লম্ফন ঘটিয়েছে। অন্যদিকে তাবেলা সিজার ও হোসিও কুনি হত্যা এবং হলি আর্টিজানের মত ট্যাজেডিকে পেছনে ফেলে বিদেশি পর্যটকের ক্ষেত্রেও আশাব্যঞ্জক উন্নতি ঘটেছে। ৬ লাখেরও বেশি বিদেশি পর্যটক গত বছর বাংলাদেশে এসেছে। জাতিসংঘের টুরিজম বিষয়ক অঙ্গসংগঠন ইউএনডব্লিউটিও, ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল এন্ড টুরিজম কাউন্সিল এর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে ১১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫০০ টি। পরোক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছিলো ২৩ লক্ষ ৪৬ হাজার, যা মোট কর্মসংস্থানের ৪.১%। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল এন্ড টুরিজম কাউন্সিল এর পূর্বাভাস হচ্ছে পরবর্তি বছরে এটি আরো ২.৩% বেড়ে এবং গড়ে ১.৯% হারে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালে ২৮ লক্ষ ৯৪ হাজারে পৌঁছাবে।
আলোচনায় আরো অংশ নেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মান্নান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কর্নেল (অব.) ফারুক খান, বিপিসি’র চেয়ারম্যান অপরূপ চৌধুরী পিএইচডি, বিটিবির প্রধান নির্বাহী পরিচালক ড. নাসির উদ্দিন, টোয়াব প্রেসিডেন্ট তৌফিক উদ্দিন আহমেদ, ট্রিয়াব প্রেসিডেন্ট খবির উদ্দিনসহ এভিয়েশন ও পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ পাঠ করেন জার্নি প্লাসের সিইও তৌফিক রহমান, নভোএয়ারের এমডি মফিজুর রহমান, আটাবের যুগ্মমহাসচিব আব্দুস সালাম আরিফ।
সভায় এভিয়েশন ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে শুল্কমুক্ত ট্যুরিস্ট গাড়ি আমদানি, ট্রানজিট ট্যাক্স প্রত্যাহার, এয়ার টিকেটের উপর ভ্যাট প্রত্যাহার, বিমানের ফুয়েল প্রাইস হ্রাস, এরেনোটিকেল এবং নন এ্যারোনোটিকেল সার্জ কমানো, পর্যটনকে সিএস আর এ অন্তর্ভূক্ত করাসহ বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হয়।
ইত্তেফাক/রেজা