যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, তিনি মূলত এফবিআই এবং রাশিয়ার কারণে হেরেছেন। মার্কিন নির্বাচনের পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর ১০০ দিন পার হলেও নির্বাচন নিয়ে এখনো আলোচনা থামেনি। এবার হিলারি নির্বাচনে পরাজয় নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন। নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড সামিটের এক অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার হিলারি বলেছেন, নির্বাচনের প্রচারাভিযান নিয়ে তিনি একটি বই লিখছেন। সে বইয়ের জন্য হিলারি তার নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ চিহ্নিত করার জন্য ব্যাপক গবেষণা করেছেন। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, প্রচারণা কৌশলের ব্যর্থতাকে দায়ী না করে ডেমোক্র্যাট দল এখন অজুহাত তৈরি করছে। অন্যদিকে স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি কংগ্রেসে এক শুনানিতে জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনের আগে কংগ্রেসকে হিলারির ই-মেইল বিষয়টিতে সতর্ক করে সঠিক কাজই করেছেন। তিনি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য কিছু করেননি। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।
হিলারি বলেন, তার নির্বাচনী প্রচারাভিযানে চ্যালেঞ্জ, সমস্যা এবং ঘাটতি ছিল। নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য হিলারি তত্কালীন এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে দায়ী করেছেন। হিলারি দাবি করেন, তিনি নির্বাচনে জয়ের পথে ছিলেন। কিন্তু অক্টোবরের ২৮ তারিখে তত্কালীন এফবিআই পরিচালকের চিঠি এবং রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার কারণে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে। গত বছরের অক্টোবরের ২৮ তারিখে তত্কালীন এফবিআই মার্কিন কংগ্রেসকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন যে হিলারির ব্যক্তিগত ই-মেইলের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর নির্বাচন হলে জয়লাভ করা সম্ভব হতো বলে মনে করেন হিলারি। হিলারি বলেন, তার নির্বাচনী প্রচারণার শেষ ১০দিনে সবকিছু পাল্টে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় একটি দলের হয়ে প্রথমবারের মতো একজন নারী প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়াই করেন। সেটিও তার পরাজয়ের জন্য একটি বড় কারণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটা সত্যি। নারীদের প্রতি বৈষম্য রাজনীতি, সমাজ এবং অর্থনীতির একটি অংশ। তার নির্বাচনে জয়লাভ করা নারী অধিকারের জন্য বিশ্বজুড়ে একটি বড় বিষয় হতে পারতো বলে হিলারি মনে করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেন হিলারি। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার মিসাইল এবং পারমানবিক কার্যক্রম বন্ধের জন্য একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা দরকার। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে হিলারি বলেন, কোন এক সকালে শুধু কিছু টুইটারে বার্তা লিখে এ সমস্যার সমাধান করা যাবে না। হিলারি আরো বলেন, তিনি এখন একজন সক্রিয় নাগরিক হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যেসব ‘ভুল নীতি’ রয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলবেন।
পাল্টা সমালোচনা ট্রাম্পের
হিলারির বক্তব্যের পরই মঙ্গলবার রাতে কয়েক দফা টুইট করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, হিলারির ক্ষেত্রে এফবিআই পরিচালক যা করেছেন তা সবচেয়ে একটি ভাল কাজ বলে মনে হয়। আর ডেমোক্র্যাটরা রাশিয়া ও এফবিআইকে নির্বাচনে হারার অজুহাত হিসেবে দায়ী করছেন। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনী প্রচারণা খুবই দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছিলাম।
ইত্তেফাক/নূহু