রংপুরে ফল প্রকাশের আগে পরীক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

বাবা-মা ঢাকায় গার্মেন্টেসে চাকরি করেন। এ কারণে খালার বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করতো মীম। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মীম অংশ নেয়। ফলাফলের জন্য খালার বাড়িতে অপেক্ষা করছিল সে।
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফল প্রকাশের এক ঘণ্টা আগে খালার বাড়ি থেকে মীমের লাশ উদ্ধার করা হয়। ফল প্রকাশের পর জানা গেল মীম জিপিএ-৪.৫১ পেয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে  রংপুরের পীরজাবাদ দরগারপাড়া এলাকায়। 
 
মীম রংপুর বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবারে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কেরাণীপাড়ার জামতলা মসজিদ এলাকায় তার বাবা মোহর বানিয়া জমি ও বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে কিছু দিন আগে মাকেসহ ঢাকায় চলে যান। ঢাকায় একটি গার্মেন্টেসে তারা চাকরি করেন। এসএসসি পরীক্ষার কারণে ছেলেকে আর ঢাকায় নিতে পারেননি। পীরজাদাবাদ দরগারপাড়ায় খালু মঞ্জুরুল ইসলামে বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছিল। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নেয়।
IMG0
দুপুর ১২টার দিকে মীমের খালা আঙ্গুরা বেগম ঘরের বিছানায় মীমকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করেন। পরে পুলিশ গিয়ে মীমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
 
মীমের চাচা সুমন অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে মীমের বাবা পীরজাবাদ দরগারপাড়া এলাকায় জমি কেনার জন্য মঞ্জুরুলকে প্রায় ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন। এই টাকা লেনদেনের জের ধরে তার ভাতিজাকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালানো হয়েছে।
 
কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল ইসলাম বলেন, মৃতের চোখের এক পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
 
রংপুর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, লাশ বিছানায় পড়ে ছিল। ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে একটি গামছা ঝুলিয়ে রেখে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে তারা প্রচারণা চালিয়েছে। টাকা লেনদেন নিয়ে তাদের পরিবারের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। ঘটনার পর মৃতের খালু পলাতক রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।  
 
ইত্তেফাক/ইউবি