‌‘সোশ্যাল মিডিয়ায় বিএনপির অপপ্রচারের জবাব দিন’

 
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, কাজ করলে মানুষ ভোট দেবে- এ কথা ভেবে এখন ঘরে বসে থাকলে চলবে না। এখন প্রচারের যুগ। ভালো কাজের প্রচারের মাধ্যমে অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে। সরকার বিরোধী অপপ্রচারের জবাব দিতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 
 
আজ রবিবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। 
 
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, পঁচাত্তরের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতো কাজ করার পরও সরকারকে অপপ্রচার সহ্য করতে হয়। সুতরাং শুধু কাজ করলে হবে না, মানুষের জন্য কী কাজ করা হয়েছে তার প্রচার করতে হবে। প্রতিদিন সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জয় বলেন, পারলে রোজ একটা করে পোস্ট দেবেন। দিনে দুই তিনটা করেও দিতে পারেন। আমরা যেগুলো পোস্ট দেব, সেগুলো শেয়ার করেন। এগুলো ভাইরাল হয়ে যায়।
 
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, জানি, টেকনোলজি ব্যবহার করাটা অনেকের জন্য মাঝে-মধ্যে একটু কঠিন হয়, আপনারা চেষ্টা করবেন, আপনাদের যতটুকু সম্ভব আমরা সহযোগিতা করব। আর আপনারা যদি কমফোর্টেবল ফিল না করেন, যদি তাও সাহস না পান, আমি অনুরোধ করব, একজন পিএস দিয়ে দেন, যার কাজ থাকবে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেওয়া। 
 
জয় বলেন, অ্যাকাউন্ট কীভাবে ভেরিফায়েড করাতে হয় তা এমপিদের শিখিয়ে দেওয়া হবে। তখন ওই অ্যাকাউন্ট তাদের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট হয়ে যাবে।
 
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, মানুষের কাছে আমাদের যা বলার, আমাদের পরিশ্রম, এবং আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের মোকাবেলা, এটা আমরা আরও বেশি মানুষের কাছে, আরও বেশি তরুণদের কাছে পৌঁছে দিতে পারব এভাবে। 
 
তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে শুধু দেশের জন্য কাজ করলে হবে না, আমরা কী করছি তা মানুষকে জানাতে হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিজে নিজে নির্মিত হয় না, পদ্মা সেতুও এমনিতেই তৈরি হয়ে যায় না। এগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের সিদ্ধান্তে হচ্ছে। আমরা এগুলো টাকা জোগাড় করে দিয়েছি, আমরা পরিশ্রম করছি। 
 
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকে মোকাবিলা করতে হলে নিজের প্রচার করে যেতে হবে। দলের সিনিয়র নেতারা অবশ্য মানুষের সামনে কথা বলতে, নিজের ঢোল পেটাতে লজ্জা পান। এটা স্বাভাবিক, আমরা যারা সৎ মানুষ তারা সব সময় নিজের ঢোল পেটাতে লজ্জা পাই। যারা ফাঁকিবাজ, টাউট তারা নিজেদের ঢোল পেটাতে পারে। যারা পরিশ্রম করতে পারে, যারা সৎ তারা একটু লজ্জা পায়। তবে সেই লজ্জা পেলে কিন্তু হবে না। আমাদের জোর গলায় বলতে হবে। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার মোকাবিলা করতে হবে। আমরা কী করছি, সেটা বারবার বলতে হবে।
 
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, দুর্নীতি করেছে বিএনপি, আর সন্ত্রাস করেছে জামায়াত। এই দুই দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৩ সালে আমি যখন আওয়ামী লীগের প্রচারে নামি তার আগে থেকেই ব্যর্থ হয়েছে। এত কাজ করেছি, মানুষের আয় দ্বিগুণ হয়েছে, ৩২ কোটি স্কুলে বই বিতরণ করা হচ্ছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করেছি, পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করে দিয়েছি তারপরেও ব্যর্থ হয়েছে, ব্যর্থ হয়েছে প্রচার-অপপ্রচার। 
 
তিনি বলেন, আমাদের তরুণরা কিন্তু এখন আর খবরের কাগজ কম পড়েন। খবরের কাগজে শুধু আমাদের ওই সুশীল বাবুদের মতামতই দেখা যায়। তরুণরা ওটা পাত্তা দেয় না। তরুণরা টেলিভিশনটাই বেশি দেখে। তবে সবচেয়ে বেশি খবর তার পায় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে। এ কারণে আমাদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জন্য কাজ করছি, সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে যদি আমাদের প্রচার রাখতে পারি তাহলে আজকের ভোটার না; তরুণ ভোটাররাও আওয়ামী লীগের ভোটার হয়ে থাকবে।
 
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত তিন দিনের ওই কর্মশালার উদ্বোধন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
 
অন্যান্যদের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। কর্মশালায় প্রায় ৫০ জন সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। আগামী দুই দিনের আরো ১০০ জন সংসদ সদস্যের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/কেকে