নারীর ছোট অলঙ্কার নাকফুল

নারীর ছোট্ট একটি অলঙ্কারের নাম ‘নাকফুল’। এটি আকারে ছোট হলেও বাঙালি নারীর জীবনে এর ভূমিকা অনেক বড়। নাকফুল সনাতন ও ইসলাম ধর্মাবলম্বী নারীদের বিয়ের চিহ্ন হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে এটি সব নারীর নাকের শোভা বধর্নে ব্যবহূত হয়। নাকফুল আসলে একটি পিনের উপরে কারুকাজ করা ফুলসদৃশ বস্তু। সোনা-রুপা-পিতল কিংবা অন্য যেকোনো ধাতু দিয়ে তৈরি হতে পারে এটি।

নাকফুলের ডিজাইনের সাথে এর নামেরও ভিন্নতাও রয়েছে। তবে নাকফুল, নাকছাবি কিংবা নথ বা নোলকের ব্যবহার কিছুটা ভিন্ন। নাকফুল নারীর নাকের বাঁ দিকের পাতায় ছিদ্র করে পরা হয়। আর নথ বা নোলক আগের দিনের নারীরা নাকের দুই ছিদ্রের মাঝখানের অংশে পরতেন। এখন সেই রেওয়াজ কমে গেছে। নাকফুল এবং নথ এক জায়গায় পরে থাকেন নারীরা। এর দামেও রয়েছে ভিন্নতা। ২০ টাকা থেকে শুরু করে একটি নাকফুলের দাম লাখ টাকার উপরেও হতে পারে। এক পাথরের, তিন পাথরের কিংবা সাত পাথরের নাক ফুল নারীরা পরে বেশি।

এই নাকফুল বা নথের কদর বিয়ের অনুষ্ঠানে কনের সাজে তুমুল জনপ্রিয়। বিয়ের কনেকে সাজাতে নথের সঙ্গে চেইন দিয়ে টেনে মাথার চুলে লাগানো হয়। এটি নানা পার্টিতেও নারীরা পরে থাকেন। আগে নাক ছিদ্র করে নাকফুল পরার একমাত্র উপায় ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই জায়গায় এসেছে আমুল পরিবর্তন। এখন আর নাকফুল পরতে নাক ফুটো করতে হয় না। ফলস নাক ফুল ও নথ পাওয়া যায় হাতের নাগালে।

সদ্য বিয়ে করা রেবেকা শারমিন বলেন, নাকফুল পরা এখন আর চাপিয়ে দেয়ার বিষয় নয়। আমি আমার মা-চাচিদের নাকফুল পরতে দেখেছি, আমার ভালোই লাগে তাই আমিও            পরছি। ব্যাংকার সুমাইয়া আলম বলেন, নাকফুল একজন নারীর সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমি মূলত সে কারণেই নাকফুল পরি। বাজারে খুব সস্তায় এখন বিভিন্ন ধরনের নাকফুল পাওয়া যাচ্ছে। এখন পরছি, বিয়ের পরে মন না চাইলে নাও পরতে পারি। এটা জোর করার বিষয় নয়।

একটি নামকরা জুয়েলারির দোকানের কারিগর কানাই লাল বসাক বলেন, আমরা আগে ছোট নাকফুল তৈরি করলেও বর্তমানে বড় নাকফুল পছন্দ করছেন নারীরা। তবে ছোট নাকফুলও চলছে। আমরা নারীদের পছন্দের কথা মাথায় রেখেই বড়-ছোট নাকফুল ও স্টোনের নাকফুল বানাচ্ছি। তবে মেয়েরা এখন  হীরার নাকফুল বেশি ব্যবহার করছেন।