জুভেন্টাসের হয়ে দুটি চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনালে শিরোপা পাওয়া হয়নি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফনের। কিন্তু দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এবার অন্তত প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়নস লীগের ট্রফিটি হাতে নিতে চান, একইসাথে জুভেন্টাসের হতাশাও ভোলাতে চান ইতালিয়ান এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
মোনাকোর বিপক্ষে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে জুভেন্টাসের ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচটিতে বুফনের অবদান ছিল সর্বাগ্রে। ম্যাচে তিনি পাঁচবার গোলের সুযোগ নষ্ট করে মোনাকোকে হতাশ করেছেন। ফাইনালে এখন জুভেন্টাসের যাওয়া প্রায় অনেকটাই নিশ্চিত বলা যায়, যেখানে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়ের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লীগে টানা ছয়টি ম্যাচে একটি গোলও হজম না করে রেকর্ড গড়েছে জুভেন্টাস। ২০০৩ সালে এসি মিলান ও দুই বছর আগে বার্সেলোনার কাছে ফাইনালে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে এবার বেরিয়ে আসতে চান আত্মবিশ্বাসী বুফন।
ইউয়েফার ওয়েবসাইটে বুফন বলেছেন, ‘২০১৫ সালে বার্লিনে হারের থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্য অবশ্যই আছে। কিন্তু ২০০৩ সালে ম্যানচেস্টারের হয়ে ফাইনালের হারের বিষয়টিও এখানে উল্লেখ করতে চাই। এসব কারনেই মূলত এবার ফিরে আসার ইচ্ছাটা একটু বেশী। ২০১৫ সালে অল্পের জন্য আমরা বার্সেলোনার কাছে পরাজিত হই। শেষ মুহূর্তে কাউন্টার এ্যাটাক থেকে গোল হজম করি। ২০০৩ সালে পেনাল্টিতে হারাটা আরো বেশী হতাশার। কিন্তু তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ২৫ বছর। ঐ আসরে আমরা জয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে ছিলাম। ফাইনালে তারা তিনটি পেনাল্টি মিস করেছিল যার মধ্যে আমি দুটি রক্ষা করেছিলাম। কিন্তু তারপরেও ভাগ্য আমাদের সহায় ছিল না।
এবারের মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে বার্সেলোনার বিপক্ষে আমি দারুন খুশী ছিলাম। অবশ্যই এটা নিয়ে আমরা খুব বেশী উদযাপন করিনি। কারন আমরা জানতাম শিরোপা জয়টাই এখন মূল লক্ষ্য। যেহেতু আগেও আমি কয়েকবার হতাশ হয়েছি, সে কারনেই নিজেকে সংযত করেছি। এটা আমার কাছে অনেক বেশী অর্থ বহন করে। এটা আমার ক্যারিয়ারে বিশ^কাপের সাথে সবচেয়ে বড় জয় হতে পারে। কঠোর পরিশ্রম, সাহসিকতা ছাড়া এই ধরনের ট্রফি জেতা সম্ভব নয়। আমি সবসময়ই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিততে চেয়েছি। আমি জানি সতীর্থ, সমর্থকরা সাথে থাকলে সব কিছুই সম্ভব।’
৩৯ বছর বয়সে বুফন এখন ক্যারিয়ারের শেষ সময় গুনছেন। কিন্তু ইতালীর জাতীয় দলের এই গোলরক্ষক এই বয়সেও তরুনদের সান্নিধ্য বেশ উপভোগ করছেন, একইসাথে পরবর্তী প্রজন্মের চ্যালেঞ্জও বেশ ভালভাবেই গ্রহণ করছেন। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মোনাকোর ২১ বছর বয়সী স্ট্রাইকার কেইলিয়ান এমবাপের চ্যালেঞ্জ এখন কালকের ম্যাচে বুফনের সামনে সবচেয়ে বড় বাঁধা। এ সম্পর্কে বুফন বলেছেন, এমবাপে ১৯৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেছে, ঐ সময়ে আমি ফ্রান্সে বিশ^কাপ খেলে ফেলেছি। এটাই দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুন্দর দিক। আরেকটি দিক এখানে উল্লেখ করতে চাই, প্রায় তিনটি প্রজন্মের সাথে আমি ইতোমধ্যেই খেলেছি। যখন আমি খেলা শুরু করি তখন আমার সাথে যারা ছিল তাদেও প্রায় বেশীরভাগ ৫০ কিংবা ৬০’র দশকে জন্মগ্রহন করেছিল। আর এখন আমি যাদের সাথে খেলছি তারা ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করেছে। বাসস।
ইত্তেফাক/রেজা