বিশ্বের মডেল বাংলাদেশের বার্ন ইনস্টিটিউট

শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির নির্মাণ কাজ ২৫ ভাগ শেষ হয়েছে। হাসপাতালটিতে দক্ষ, প্রশিক্ষিত চিকিত্সক ও নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে। শতভাগ সেবার মান নিশ্চিত করা হবে। এমনভাবে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হবে যেন বিদেশ থেকে রোগীরা এই হাসপাতালে চিকিত্সা সেবা নিতে আসেন।

দক্ষ জনবলের জন্য সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে একটি চুক্তি করা হয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বমানের চিকিত্সক ও নার্সদের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে এই হাসপাতালের জন্য বাংলাদেশের চিকিত্সক ও নার্সদের প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। গত এপ্রিলে এক ব্যাচের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। তিন বছর মেয়াদে ধাপে ধাপে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। ইতোমধ্যে ৯০ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স ২০ জন ডাক্তারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১০ জন ফিজিওথেরাপিস্টকেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

পোড়া রোগীদের জন্য সারাবিশ্বে এই হাসপাতাল মডেল হবে বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা। জানা যায়, দেশে বছরে ৯ লাখ পোড়া রোগীর চিকিত্সা হয়। এদের মধ্যে ৯৮ ভাগের প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হয়। পোড়া ও প্লাস্টিক সার্জারির চিকিত্সা দুইটাই ব্যয়বহুল। দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের পক্ষে এই চিকিত্সার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। তবে এখানে বিনামূল্যে চিকিত্সাসেবা দেওয়া হবে। ৫০০ বেডের এই হাসপাতালে ১ হাজার ২০০ জন নার্স ও ৫০০ চিকিত্সক থাকবে।  

এদিকে রাজধানীর চানখাঁরপুলে নির্মাণাধীন ‘শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি’ এর কাজ ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। গতকাল মঙ্গলবার বার্ন হাসপাতালের নির্মাণ কাজ পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এটি বিশ্বমানের সর্ববৃহত্ বার্ন হাসপাতাল, যা স্বাস্থ্যখাতের বড় একটি অর্জন। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরপরই দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। আশা করি অগ্নিদগ্ধ মানুষের সেবাদানের ক্ষেত্রে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতাল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে শীর্ষস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।’

পৃথক বার্ন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘২০১৩ ও ২০১৪ সালে বিরোধী দলের জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি এবং আগুন সন্ত্রাসের শিকার অগ্নিদগ্ধ নিরীহ মানুষের আর্তনাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যথিত করে। সে সময় তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে ছুটে গিয়েছিলেন অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে। তাঁরই নির্দেশে এদেশে প্রথম বিশ্বমানের একটি বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার কাজ হাতে নেওয়া হয়।’

মন্ত্রী হাসপাতালের নির্মাণ কাজ যেন ত্রুটিমুক্ত ও বিশ্বমানের হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ইনস্টিটিউটে গবেষণা এবং দক্ষ জনবল সৃষ্টিতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টির উপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রকল্প সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালেই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বঙ্গবন্ধু সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৫টি বেড দিয়ে পোড়া রোগীদের চিকিত্সা কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। ১৯৯৬ সালে তার কন্যা তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫০ বেড দিয়ে ঢাকা মেডিক্যালে আলাদা বার্ন ইউনিট করেন। আর এখন ৫০০ বেডের বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট নির্মাণ হচ্ছে সেটাও শেখ হাসিনার আমলেই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই নির্মাণ কাজও দ্রুত হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম বলেন, আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে এটি চালু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটির উদ্বোধন করবেন। এখানে রোগীদের চিকিত্সা ও সার্জারি দুটোই বিনামূল্যে করা হবে। পোড়া রোগীর চিকিত্সার জন্য আর বিদেশে যেতে হবে না।

নির্মাণ কাজটি করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাকিল বলেন, যাথাসময়ের মধ্যেই ‘শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি’র নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

ইত্তেফাক/নূহু