বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার ধানেও ব্লাস্ট

গমের পর এবার উত্তরাঞ্চলে বোরো ধানে ‘ব্লাস্ট রোগ’ ছড়াচ্ছে। এ বছর রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে এ রোগ দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে কীটনাশক স্প্রে করেও তেমন ফল পাচ্ছে না কৃষক। মূলত বৈরী আবহাওয়ার কারণেই এটি ঘটছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। এ রোগ প্রতিরোধ করা না গেলে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। নতুন জাত উদ্ভাবন ছাড়া এ রোগের স্থায়ী কোনো সমাধান নেই বলেও তারা মত দিয়েছেন।
 
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ুর পরিবর্তন ধানে ব্লাস্ট রোগ সংক্রমণের প্রধান কারণ। প্রবল বর্ষণ, উচ্চ তাপমাত্রার পাশাপাশি আর্দ্রতা, দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা এবং ভোরে শিশির পড়া—আবহাওয়ার এমন তারতম্যের কারণে ব্লাস্ট রোগ ধানে সংক্রমিত হয়েছে।
 
ব্লাস্ট রোগ নিয়ে গবেষণা করছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. তোফাজ্জল ইসলাম। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, গমের ব্লাস্ট থেকে ধানে আক্রমণ করেনি। বাংলাদেশে গত ৪০ বছর ধরেই ধানে ব্লাস্ট ছিল। এ বছর অনুকূল পরিবেশ পেয়ে প্রকোপ বেড়েছে। এ ধরনের রোগের প্রকোপ থেকে স্থায়ী সমাধান পেতে হলে নতুন জাত উদ্ভাবন করতে হবে। আর এজন্য প্রথমে দেশি জাতের ধানের জীবন রহস্য উন্মোচন করতে হবে।
 
কেন ধানে ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. ভাগ্য রানী বণিক ইত্তেফাককে বলেন, চলতি মৌসুমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত, দিনে বেশি তাপমাত্রা, রাতে ঠান্ডা—এসব কারণে ব্লাস্ট নামক ছত্রাকজনিত রোগটি অনুকূল পরিবেশ পেয়ে ধানে সংক্রমিত হয়েছে। সংক্রমিত এলাকাগুলোতে দায়িত্বরত কৃষি কর্মকর্তাদের এই মুহূর্তের করণীয়গুলো নির্দেশনা আকারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে এ প্রকোপ কমিয়ে আনা যায়।
 
প্রসঙ্গত, ব্লাস্ট এক ধরনের ছত্রাকবাহী রোগ। এ রোগ হলে ধানে শীষ বের হওয়ার পর শীষের গোড়ায় পচন ধরে। তখন ধানগুলো চিটা হয়ে যায়। 
 
ইত্তেফাক/পাভেল