যশোরে দুর্ঘটনা: অসততার সঙ্গে সততারও উদাহরণ

 
কৃষক পরিবারের সন্তান মো. ফরহাদ রেজা (২৬)। যশোর সদর উপজেলার দৌলতদিহি গ্রামে তার বাড়ি। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে ফরহাদ ৪র্থ। দেশের অন্যতম বৃহত্তম সবজির মোকাম সাতমাইল বাজার থেকে দেশের নানা প্রান্তে সবজি পাঠানোর কমিশনের ব্যবসা তার। কিন্তু দোকান বলতে নিজের কিছুই নেই। স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে ব্যবসার কাজ সারেন।
 
মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় বাস দুর্ঘটনায় হতাহতদের উদ্ধারে এলাকার আরও অনেক মানুষের মতো তিনি ছুটে যান। একপর্যায়ে মুমূর্ষু এক যুবকের পকেট থেকে টাকার কয়েকটি বান্ডিল পাওয়া যায়। এলাকার যুবকরা সততার জন্য পরিচিত ফরহাদের হাতে টাকাগুলো তুলে দেন। ফরহাদ হাসপাতালে গিয়ে টাকার মালিককে খুঁজে না পেয়ে রাতে যোগাযোগ করেন পুলিশ সুপারের সঙ্গে। তার নির্দেশনানুযায়ী পুলিশ লাইনসে গিয়ে ডিবি'র ওসির হাতে তুলে দেন টাকার বান্ডিল। সেখানে গুনে পাওয়া যায় পুরো এক লাখ টাকা।
 
সততার এমন দৃষ্টান্তে জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বুধবার ফরহাদকে তার কার্যালয়ে ডেকে বাহবা দেন এবং সততার নিদর্শন স্মারক ও নগদ ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেন। এ সময় ডিবি'র ওসি ইমামুল হক উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কার এবং স্মারক নিয়ে তিনি আসেন ইত্তেফাক অফিসে। আলাপকালে জানান, তার অভাব থাকলেও অন্যের টাকার প্রতি বিন্দুমাত্র মোহ নেই। এজন্য এলাকায় তিনি সৎ মানুষের খ্যাতি পেয়েছেন। তবে টাকা পাবার পর এমনকি পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার পরও বিড়ম্বনায় পড়েছেন তিনি। এলাকার বিভিন্ন মানুষ তার পাঁচ লাখ টাকা খোয়া গেছে উল্লেখ করে টাকা দাবি করছে। বিষয়টি তিনি পুলিশ সুপারকে জানিয়েছেন।
 
আর পুলিশ সুপার ইত্তেফাককে জানান, দুর্ঘটনায় আহত এক যুবক তার সাড়ে তিন লাখ টাকা খোয়া গেছে বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। এসপি জানান, ফরহাদের জমা দেয়া এক লাখ টাকা ওই যুবকের হতে পারে। অন্যান্য উদ্ধারকারীদের মধ্যে দুজন এক লাখ টাকা করে এবং অপর একজন ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলে এসপি জানান।
 
তিনি আরও জানান, আহত যুবক সুস্থ হবার পর নিশ্চিত হয়ে টাকা হস্তান্তর করা হবে। প্রয়োজনে আদালতের সহায়তা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের সাতমাইল নামক স্থানে ওই দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত এবং ৪৫জন আহত হন।
 
ইত্তেফাক/জামান