শেবাচিম হাসপাতালের চতুথ শ্রেণির স্টাফ কোয়ার্টার কম্পাউন্ডের পুকুরে ভাসছে বিভিন্ন ধরনের সরকারি ওষুধ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শেফালী বেগম ও তার পুত্র মো. মামুনকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ।
শুত্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়রা কোয়র্টোরের চার নম্বর ভবনের সামনের পুকুরে ওষুধগুলো ভাসতে দেখে থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপুর একটার দিকে ওষুধগুলো উদ্ধার করে। পুকুরে ভাসমান ওষুধের মধ্যে সেফট্রিয়াক্সোন ইনজেকশন, জেএমআই সিরিঞ্জ, ডেস্কামেটথাসন সোডিয়াম, লার্ব ৫০+, লুমনা-১০, ডমপেরিডন, ভ্যাসোপিস্ক, থিওফাইনিল, জ্যাসোকাইন জেল, ডাইক্লোফেন ইনজেকশন, এনক্লোগ প্লাস, সালবুটামল, এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ রয়েছে।
কোয়াটারের বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকে ওষুধগুলো পুকুরের পানিতে তারা ভাসতে দেখেন। কিছু ওষুধ পুকুরের পাড়ে দুই কোয়াটারের মাঝখানে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যে ওষুধগুলো ভাসছে সে ওষুধগুলোর গায়ে লালসবুজ এর সরকারি রং রয়েছে এবং ওষুধগুলোর কোনটি ২০১৮ এবং কোনটি ২০১৯ সাল পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে। এ পর্যন্ত ১৩ ধরনের ওষুধ চিহ্নিত করা গেছে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল হক বলেন, ‘খবর পেয়ে স্টোর অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। সরকারি এ ওষুধ কিভাবে পুকুরে গেলো তা খতিয়ে দেখা হবে। এজন্য তদন্ত কমিটির পাশাপাশি স্টোরের রেজিস্ট্রারও মিলিয়ে দেখা হবে।’
শেবাচিমের স্টোর অফিসার ডা. মাহমুদ হাসান জানান, তিনি পরিচালকের মাধ্যমে খবর পেয়ে এসেছেন। ওষুধ গুলোর মেয়াদ রয়েছে ২০১৯ সাল পর্যন্ত। সরকারি সিল করা ওষুধ পুকুরে এলো কি করে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই আবু তাহের জানান, তারা সরকারি ওষুধগুলো উদ্ধার করে তালিকা করছেন। এগুলো শেবাচিম হাসপাতালের কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাসপাতালের স্টাফ শেফালী বেগম ও তার পুত্র মামুনকে আটক করা হয়েছে। দুই নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় তাদের বাসা থেকে আরো কিছু ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/ইউবি